ঢাকা ০৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলা ঘিরে সংঘর্ষ: বাস ভাঙচুর ও শ্রমিক পেটানোর প্রতিবাদে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

 

কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলায় আসা কিছু দর্শনার্থীর বিরুদ্ধে বাস ভাঙচুর ও পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বাস শ্রমিকরা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেন। এর ফলে দূরপাল্লার নৈশকোচ ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টা থেকে একাধিক বাস সড়কে আড়াআড়িভাবে রেখে এই অবরোধ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের আশ্বাসে রাত ১১টার দিকে সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ভুরুঙ্গামারী থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘মা নাদিয়া পরিবহন’-এর একটি বাস জেলা শহরের ধরলা সেতু এলাকায় পৌঁছালে বাণিজ্য মেলা থেকে বের হওয়া ৫-৭ জন উঠতি বয়সী যুবক রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাসটি থামানোর চেষ্টা করে। চালক বাস না থামিয়ে সেতু পার হয়ে টোল প্লা자에 টোল দেওয়ার সময় ওই যুবকেরা বাসটিতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে জেলা শহরের রিভার ভিউ মোড় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটকে মারধর করা হয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এ সময় তারা বাণিজ্য মেলাকে ‘উচ্ছৃঙ্খল, চাঁদাবাজ ও বখাটে যুবকদের অভয়ারণ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অবিলম্বে মেলা বন্ধের দাবি জানান। শ্রমিক নেতা মো. হাসান মিয়া বলেন, “বাণিজ্য মেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। গাড়ি ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে আবারও কঠোর বাস ধর্মঘটের মাধ্যমে পুরো কুড়িগ্রাম অচল করে দেওয়া হবে।”

খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে। পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পর রাত ১১টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন জানান, “বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আর বাণিজ্য মেলা বন্ধের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের এখতিয়ারভুক্ত। মেলা বন্ধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।” নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে শ্রমিকরা পুনরায় কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলা ঘিরে সংঘর্ষ: বাস ভাঙচুর ও শ্রমিক পেটানোর প্রতিবাদে ৩ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ

আপডেট সময় : ০৫:৩৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

 

কুড়িগ্রামে বাণিজ্য মেলায় আসা কিছু দর্শনার্থীর বিরুদ্ধে বাস ভাঙচুর ও পরিবহন শ্রমিকদের মারধরের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ বাস শ্রমিকরা জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র শাপলা চত্বরে প্রায় তিন ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে তীব্র বিক্ষোভ করেন। এর ফলে দূরপাল্লার নৈশকোচ ও ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহনের দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাত ৯টা থেকে একাধিক বাস সড়কে আড়াআড়িভাবে রেখে এই অবরোধ শুরু করেন শ্রমিকরা। পরে পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের আশ্বাসে রাত ১১টার দিকে সাময়িকভাবে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।

আন্দোলনরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ভুরুঙ্গামারী থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ‘মা নাদিয়া পরিবহন’-এর একটি বাস জেলা শহরের ধরলা সেতু এলাকায় পৌঁছালে বাণিজ্য মেলা থেকে বের হওয়া ৫-৭ জন উঠতি বয়সী যুবক রাস্তায় দাঁড়িয়ে বাসটি থামানোর চেষ্টা করে। চালক বাস না থামিয়ে সেতু পার হয়ে টোল প্লা자에 টোল দেওয়ার সময় ওই যুবকেরা বাসটিতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে জেলা শহরের রিভার ভিউ মোড় ও জেলা শিল্পকলা একাডেমির সামনে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় বাসের চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারকে আটকে মারধর করা হয়। এতে তিনজনই গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এ সময় তারা বাণিজ্য মেলাকে ‘উচ্ছৃঙ্খল, চাঁদাবাজ ও বখাটে যুবকদের অভয়ারণ্য’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং অবিলম্বে মেলা বন্ধের দাবি জানান। শ্রমিক নেতা মো. হাসান মিয়া বলেন, “বাণিজ্য মেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। গাড়ি ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করা না হলে আবারও কঠোর বাস ধর্মঘটের মাধ্যমে পুরো কুড়িগ্রাম অচল করে দেওয়া হবে।”

খবর পেয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সাথে কথা বলে। পুলিশের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসের পর রাত ১১টার দিকে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেন এবং সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন জানান, “বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। আর বাণিজ্য মেলা বন্ধের বিষয়টি জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের এখতিয়ারভুক্ত। মেলা বন্ধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবেন।” নির্ধারিত ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটামের মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা না হলে শ্রমিকরা পুনরায় কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন।