কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার একটি স্বনামধন্য ফাজিল মাদরাসায় প্রশাসনিক অনিয়ম, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ ঘিরে তীব্র অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের প্রিন্সিপাল মোঃ লিয়াকত আলীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থেকেও বেতন-ভাতা উত্তোলন, গোপনে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালনা এবং শিক্ষকদের হয়রানির অভিযোগ তুলে ম্যানেজিং কমিটির ১৪ সদস্যের মধ্যে শিক্ষক প্রতিনিধিসহ ১১ জন একযোগে পদত্যাগ করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৩ মে) বিকেলে উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কামাল খামার ফাজিল মাদরাসার অফিস কক্ষে স্বেচ্ছায় পদত্যাগপত্র জমা দেন তারা। এ সময় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
পদত্যাগকারী কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নান অভিযোগ করে বলেন, প্রিন্সিপাল লিয়াকত আলী প্রায় দেড় বছর ধরে মাদরাসায় নিয়মিত অনুপস্থিত থেকেও সরকারি নিয়ম ভেঙে বেতন-ভাতা তুলে আসছেন। পাশাপাশি কমিটির সদস্যদের অন্ধকারে রেখে গোপনে নিয়োগ বাণিজ্যের চেষ্টা করছেন।
মাদরাসার শিক্ষক প্রতিনিধি মাসুদ আলী বলেন, “আমি প্রায় ২৫ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। বর্তমান প্রিন্সিপাল দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অনিয়ম-দুর্নীতি বেড়েছে। ইতোমধ্যে ছয়টি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলেও শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এমনকি গোপনে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও শুনেছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত দুই বছরে শিক্ষকদের টিউশন ফি বাবদ প্রায় ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে।
মাদরাসা সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৯৭ জন শিক্ষার্থী। শিক্ষক-কর্মচারী মিলিয়ে মোট ৩৯ জন কর্মরত রয়েছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রিন্সিপাল মোঃ লিয়াকত আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
কুড়িগ্রামে প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্ফোরক অভিযোগ, ১৪ সদস্যের কমিটির ১১ জনের একযোগে পদত্যাগ
-
মোঃ জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ - আপডেট সময় : ১২:৩৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬
- 67
জনপ্রিয় সংবাদ




















