সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রামে এই প্রথমবারের মতো অতি উচ্চমাত্রার ও ভয়ংকর মাদক ‘ক্রিস্টাল মেথ আইস’ (মেথঅ্যামফেটামিন) জব্দ করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আধুনিক ও অত্যন্ত বিপজ্জনক এই মাদকের চালান উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় মাদক কারবারের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. শাহিন খান (২৮) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে কুড়িগ্রাম জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোছা. জান্নাতুল ফিরদৌস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
*যেভাবে অভিযান পরিচালিত হয়:*
ডিএনসি সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি চৌকস দল বুধবার (১ জুলাই) বিকেলে জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের আজোয়াটারী গ্রামে অভিযান চালায়। গোয়েন্দা তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর ওই গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে শাহিন খানের বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। অভিযানে তার শয়নকক্ষের খাটের পাশে রাখা একটি টেবিলের ড্রয়ার থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১০ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস এবং ২ দশমিক ৫ গ্রাম হেরোইন জব্দ করা হয়।
*মাদকটির ভয়াবহতা ও উদ্বেগ:*
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘ক্রিস্টাল মেথ আইস’ বর্তমানে দেশে প্রচলিত মাদকগুলোর মধ্যে অন্যতম ভয়ংকর ও উচ্চমাত্রার একটি মাদক। এটি সরাসরি মানবদেহের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে এবং অত্যন্ত দ্রুত আসক্তি তৈরি করে। দেশে সীমিত আকারে এর অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও কুড়িগ্রাম জেলায় এই প্রথম এই মাদকের চালান ধরা পড়ল। এটি মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
*আইনি পদক্ষেপ:*
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোছা. জান্নাতুল ফিরদৌস বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত শাহিন খানকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার বাদী এসআই মোছা. জান্নাতুল ফিরদৌস বলেন, “আমরা মাদকের উৎস এবং এর সাথে আর কারা জড়িত, তা উদ্ঘাটনের চেষ্টা করছি। জেলার প্রতিটি প্রান্তে মাদকের ভয়াবহ বিস্তার রোধে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং বিশেষ অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। জনস্বার্থে এবং তরুণ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এ ধরনের অভিযান আগামীতে আরও জোরদার করা হবে।”
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। এবারই প্রথম কুড়িগ্রামে এই মাদকের উপস্থিতি পাওয়ায় এলাকাবাসী ও সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মাদক নির্মূলে প্রশাসনের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
*হাসান মাহমুদ জয় | স্টাফ রিপোর্টার, কুড়িগ্রাম 



















