“মানুষ সমালোচনা করবে—তাই বলে কি চুপ থাকবো? সেটা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। আমি যতটুকু পারি, ইনশাআল্লাহ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করব। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।”—এই দৃঢ় প্রত্যয় ও মানবিক মানসিকতাকে সামনে রেখে আজ কুড়িগ্রাম জেলায় এক অনন্য ও কল্যাণকর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে।
আজ কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এক ভাবগম্ভীর ও প্রাণবন্ত পরিবেশে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও মন্দিরের উন্নয়ন কাজের জন্য সরকারি অনুদানের প্রথম কিস্তির ১,০০,০০০ (এক লক্ষ) টাকার চেক আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উক্ত মহৎ অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হাতে প্রথম কিস্তির চেকের অর্থ তুলে দেন কুড়িগ্রাম জেলার সম্মানিত জেলা প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসেন কায়কোবাদ মহোদয়।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের সুযোগ্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো: ফিরুজুল ইসলাম এবং সুযোগ্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়সহ জেলা প্রশাসন ও জেলা পরিষদের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ।
জেলা প্রশাসক, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী কর্মকর্তার দূরদর্শী নেতৃত্ব ও প্রশংসনীয় ভূমিকা
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসেন কায়কোবাদ মহোদয় শুধু চেক বিতরণ করেই ক্ষান্ত হননি; বরং তিনি অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে উপস্থিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে মতবিনিময় করেন। তিনি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থা গভীর মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সার্বিক খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সুষ্ঠু পরিচালনা, সংস্কার কাজ ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী ও সঠিক দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করেন।
তাঁর এই অকৃত্রিম আন্তরিকতা, জনবান্ধব মনোভাব এবং তৃণমূলের মানুষের খোঁজখবর নেওয়ার দারুণ দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করেছে। একই সাথে, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো: ফিরুজুল ইসলাম মহোদয় এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতা ও তদারকি এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে আরও গতিশীল ও সুন্দর করে তুলেছে। প্রশাসনের এমন দায়িত্বশীল, সৎ ও জনকল্যাণমুখী ভূমিকা কুড়িগ্রামের সাধারণ মানুষের মনে গভীর আশার সঞ্চার করেছে। সরকারের এই মহতী উদ্যোগের ফলে জেলার ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে বলে সকলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের এই চমৎকার উদ্যোগ এবং জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনের এমন আন্তরিক সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাই। এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষ ও সাধারণ জনগণের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
সবাই আমাদের জন্য দোয়া করবেন, যেন আজীবন মানুষের সুখে-দুঃখে এভাবেই পাশে থাকতে পারি।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: হাসান মাহমুদ জয় 



















