ঢাকা ০৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার ফলাফল বিপর্যয়: শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ এবং জবাবদিহিতা দাবি

 

 

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার এবারের ফলাফল নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।

এ বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একজন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার্থীর ভাই হিসেবে আজ বাধ্য হয়েই এই প্রশ্নগুলো তুলছি। আমাদের ছোট ভাই-বোনদের স্বপ্ন এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন পাস করেছেন—যার মধ্যে একজন নিয়মিত ও অপরজন অনিয়মিত (জিপিএ যথাক্রমে ২.০০ ও ৩.০০)। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যদি ভালো ফলাফল করতে পারে, তবে কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কেন পারবে না?”

শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “আজ শিক্ষক ও কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর উপজেলার দপ্তরে দপ্তরে ছোটাছুটির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষকরা যদি নিয়মিত ক্লাসে না আসেন, ঠিকমতো পাঠদান না করান এবং একে অপরের দোষ খোঁজা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবে শিক্ষার্থীরা কার কাছে শিখবে? সরকারি বেতন-ভাতা কি শুধু হাজিরা দেওয়ার জন্য?”

প্রতিষ্ঠানটির অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানে একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি সাধারণ টাইপের কাজটুকুও জানেন না। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার মান উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা পালন করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকরা নিজেদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ে অতীতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা পেলেও, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষকতা কোনো সাধারণ চাকরি নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে এই অবহেলা আর সহ্য করা যায় না—এমন মন্তব্য করে অবিলম্বে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার ফলাফল বিপর্যয়: শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর ক্ষোভ এবং জবাবদিহিতা দাবি

আপডেট সময় : ০১:১০:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

 

 

ভুরুঙ্গামারী উপজেলার কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার দাখিল পরীক্ষার এবারের ফলাফল নিয়ে চরম ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন উত্তীর্ণ হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল।

এ বিষয়ে প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “একজন সাধারণ শিক্ষার্থী এবং পরীক্ষার্থীর ভাই হিসেবে আজ বাধ্য হয়েই এই প্রশ্নগুলো তুলছি। আমাদের ছোট ভাই-বোনদের স্বপ্ন এভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়া কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। ১৯ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ২ জন পাস করেছেন—যার মধ্যে একজন নিয়মিত ও অপরজন অনিয়মিত (জিপিএ যথাক্রমে ২.০০ ও ৩.০০)। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যদি ভালো ফলাফল করতে পারে, তবে কামাত আঙ্গারীয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কেন পারবে না?”

শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “আজ শিক্ষক ও কর্মচারীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর উপজেলার দপ্তরে দপ্তরে ছোটাছুটির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। শিক্ষকরা যদি নিয়মিত ক্লাসে না আসেন, ঠিকমতো পাঠদান না করান এবং একে অপরের দোষ খোঁজা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন, তবে শিক্ষার্থীরা কার কাছে শিখবে? সরকারি বেতন-ভাতা কি শুধু হাজিরা দেওয়ার জন্য?”

প্রতিষ্ঠানটির অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানে একজন কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি সাধারণ টাইপের কাজটুকুও জানেন না। এছাড়া ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর শিক্ষার মান উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা পালন করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।

প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা জানান, শিক্ষকরা নিজেদের বিভিন্ন অধিকার আদায়ে অতীতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা পেলেও, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার মৌলিক অধিকার রক্ষায় প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। শিক্ষকতা কোনো সাধারণ চাকরি নয়, এটি একটি মহান দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের জীবন নিয়ে এই অবহেলা আর সহ্য করা যায় না—এমন মন্তব্য করে অবিলম্বে মাদ্রাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।