গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ১০ট দিকে এ দৃশ্য দেখা যায় দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ২ নম্বর কাটলা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী খিয়ারমামুদপুর গ্রামে। আহত তপতী রানী ওই গ্রামের ধীমান বসাকের স্ত্রী।বাঁশে চেয়ার বেঁধে গ্রামের কাদা-পানিতে ভরা সড়ক দিয়ে মাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন দুই ছেলে।
তপতী রানীর পরিবার ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে বাড়ির ভেতরে গৃহস্থালি কাজ করছিলেন তপতী রানী। হঠাৎ বাড়ির একটি পুরোনো পেঁপেগাছ ভেঙে তাঁর ওপর পড়ে। এতে তিনি কোমরে ও বাঁ পায়ে প্রচণ্ড আঘাত পান। বাড়ির লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন।
উত্তম বসাক বাংলার সংবাদকে বলেন, ‘এ রাস্তা দিয়ে চলতে খুবই কষ্ট হয়, ভাই। হামার মায়োক (মা) এই রাস্তা দিয়ে নিতে কী যে কষ্ট হলো, তা ওপরওয়ালা জানে আর আমি জানি। রাস্তাত খুবই কাদা। একে তো লাল মাটি, তার ওপর রাস্তা দিয়ে জমি চাষ করা ট্রাক্টর যায়, পাওয়ার ট্রিলার যায়, রাস্তা এক্কেবারে নষ্ট হইছে। হাটে আসার উপায় নাই। এই তনে হামরা দুই ভাই মিলে মায়োক বাঁশোত দড়ি বান্ধে চেয়ার বসে কান্ধোত (কাঁধ) করে এই রাস্তা পার করিছি।’
খিয়ারমামুদপুর গ্রামের সড়কটি চলাচলের অবস্থায় নেই। বর্ষায় কাদা-পানিতে একাকার হয়ে আছে। ভ্যান বা অন্যান্য গাড়ি চলাচল তো দূরের কথা, ওই সড়ক দিয়ে হাঁটাও কষ্টকর। ফলে তপতী রানীকে হাসপাতাল বা চিকিৎসকের কাছে নিতে পারছিলেন না স্বজনেরা। উপায় না পেয়ে বাঁশের সঙ্গে দড়ি দিয়ে প্লাস্টিকের চেয়ার বেঁধে সেই চেয়ারে বসানো হয় তপতী রানীকে। তারপর তাঁর বড় ছেলে গৌতম বসাক ও ছোট ছেলে উত্তম বসাক তাঁকে কাঁধে নিয়ে আধা কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা পার হয়ে স্থানীয় বাজারে পৌঁছান। সেখান থেকে ইজিবাইকে করে তপতী রানীকে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
মোঃ মোকাদ্দেছ বাবু, দিনাজপুর (বিরামপুর) প্রতিনিধি। 



















