ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলাবাগানে উদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন: ১০ দিন পর ছেলের স্বীকারোক্তিতে মায়ের হত্যার রহস্য উন্মোচন

কলাবাগানে উদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন: ১০ দিন পর ছেলের স্বীকারোক্তিতে মায়ের হত্যার রহস্য উন্মোচন

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার নিজ (ছেঙ্গারচর) এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকায় একটি ফলের দোকানে কাজ করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক ক্ষোভের জেরেই নিজের মা মজিদা বেগমকে হত্যা করেন জনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। মাথার খুলির চুল খসে পড়েছিল এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ বন্য প্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। ঘটনাস্থলে পিবিআই ও সিআইডিকে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মামলাটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস হওয়ায় চাঁদপুরের নবাগত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। দলে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউলসহ একাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তদন্তের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ এবং ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে মো. জনিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি জানান, তার মা একাধিক বিয়ে করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত অবস্থায় মামার বাড়িতে নানা অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। সেই ক্ষোভ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে মায়ের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন ছেঙ্গারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে মজিদা বেগমকে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান জনি। পরে কলাবাগানের ভেতরে দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে তাকে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

হত্যার পর নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন জনি, যাতে তার পরিচয় শনাক্ত করা না যায়। পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মতলব উত্তর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কলাবাগানে উদ্ধার অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন: ১০ দিন পর ছেলের স্বীকারোক্তিতে মায়ের হত্যার রহস্য উন্মোচন

আপডেট সময় : ১০:৫২:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযোগে নিহতের ছেলে মো. জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি উপজেলার নিজ (ছেঙ্গারচর) এলাকার বাসিন্দা এবং ঢাকায় একটি ফলের দোকানে কাজ করতেন।

পুলিশ জানিয়েছে, পারিবারিক ক্ষোভের জেরেই নিজের মা মজিদা বেগমকে হত্যা করেন জনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ জুন রাতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া সংবাদের ভিত্তিতে কলাকান্দা ইউনিয়নের একটি কলাবাগান থেকে অজ্ঞাত এক নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় মরদেহটি বিকৃত হয়ে যায়। মাথার খুলির চুল খসে পড়েছিল এবং বাম হাত ও হাঁটুর নিচ থেকে বাম পায়ের অংশ বন্য প্রাণীর আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। ঘটনাস্থলে পিবিআই ও সিআইডিকে অবহিত করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মামলাটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস হওয়ায় চাঁদপুরের নবাগত পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় মতলব সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীবের নেতৃত্বে এবং মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়। দলে এসআই সাদেক, এসআই মিজান, এসআই রেজাউল ও এএসআই রবিউলসহ একাধিক সদস্য দায়িত্ব পালন করেন। তদন্তের প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।

তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় লোকেশন বিশ্লেষণ এবং ম্যানুয়াল সোর্সিংয়ের মাধ্যমে মো. জনিকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জনি জানান, তার মা একাধিক বিয়ে করেছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত অবস্থায় মামার বাড়িতে নানা অবহেলা ও কষ্টের মধ্যে বেড়ে ওঠেন। সেই ক্ষোভ থেকেই দীর্ঘদিন ধরে মায়ের প্রতি তার বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়। বর্তমানে তিনি ঢাকায় ফল বিক্রেতা হিসেবে কাজ করতেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৭ জুন ছেঙ্গারচর বাজার থেকে অটোরিকশাযোগে মজিদা বেগমকে কলাকান্দা ইউনিয়নের ওই কলাবাগানে নিয়ে যান জনি। পরে কলাবাগানের ভেতরে দুই আইলের মাঝখানে জমে থাকা পানিতে তাকে চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।

হত্যার পর নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি দূরের একটি পুকুরে ফেলে দেন জনি, যাতে তার পরিচয় শনাক্ত করা না যায়। পরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সঙ্গে নিয়ে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত এবং নিহতের মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মতলব উত্তর থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।