নীলফামারীর লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের কচুয়া চৌরঙ্গী হাটে স্থায়ী দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে দোকান বরাদ্দে অনিয়ম ও টাকার বিনিময়ে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ী। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাইওয়ে সড়ক সম্প্রসারণ ও ভূমি অধিগ্রহণের সময় বাজারের কয়েকটি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে বাজার পরিচালনা কমিটি ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাজারের মাঝখানের খোলা স্থানে সাময়িকভাবে দোকান বসানোর সুযোগ দেন।
বর্তমানে বাজারের অন্য একটি স্থানে কয়েকটি স্থায়ী পাকা দোকান নির্মাণ করা হচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের একাংশ অভিযোগ করেন, কিছু অসাধু ব্যক্তি টাকার বিনিময়ে স্থায়ী দোকান বরাদ্দের সুযোগ করে দিচ্ছেন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাজারে ব্যবসা করেও অনেক পুরোনো ব্যবসায়ী স্থায়ী দোকানের বরাদ্দ পাননি। এ বিষয়ে স্থানীয় একাধিক ব্যবসায়ী ও বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভিডিও সাক্ষাৎকার এই প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তবে টাকার বিনিময়ে দোকান বরাদ্দের অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে দোকান নির্মাণকারী রবিউল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “আমরা কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই দোকান নির্মাণ করছি।”
অন্য এক দোকান নির্মাণকারী বলেন, “কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই আমি দোকানঘর সম্পূর্ণ নির্মাণ করেছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় মুঠোফোনে কথোপকথনের রেকর্ডও আমার কাছে রয়েছে।”
বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বলেন, “হাইওয়ে সড়ক সম্প্রসারণের সময় ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের অস্থায়ীভাবে দোকান বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তবে ইটের গাঁথুনির স্থায়ী পাকা দোকান নির্মাণের বিষয়ে আমি অবগত নই এবং এ ধরনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি।”
এ বিষয়ে লক্ষ্মীচাপ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আবির মোহাম্মদ অনাবিল বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি আগে অবগত ছিলাম না। আমি সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করব। তদন্ত শেষে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বাজারের মাঝখানের খোলা জায়গাটি মূলত দূর-দূরান্ত থেকে আসা কৃষকদের কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সেখানে মাছ, শাকসবজি, ধানসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিক্রি করা হয়। তাদের মতে, ক্ষতিগ্রস্ত দোকানদারদের স্থায়ীভাবে পুনর্বাসনের পর খোলা জায়গাটি আবারও কৃষিপণ্য বিক্রির জন্য উন্মুক্ত রাখা হলে বাজারের স্বাভাবিক পরিবেশ, শৃঙ্খলা ও কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা পাবে।
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দোকান বরাদ্দের পুরো প্রক্রিয়া তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কচুয়া চৌরঙ্গী হাটে স্থায়ী দোকান নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক, টাকার বিনিময়ে বরাদ্দের অভিযোগ
-
মো: মোকলেছুর রহমান নীলফামারী প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ১২:৩০:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
- 210
জনপ্রিয় সংবাদ




















