ঢাকা ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার ফরেস্ট রেঞ্জারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় বিতর্কের মুখে মামলার এজাহার

 

বন বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যদের ওপর নৃশংস হামলার ৩৩ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ঘটনার মূল হোতাদের একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে উঠেছে মোটা অংকের লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গত কাল সকালে সরকারি কাজে নিয়োজিত ফরেস্ট রেঞ্জার শরীফুল ইসলামসহ পাঁচ জন বন কর্মকর্তাকে ঘিরে ধরে মাথা ফাটিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর এ বর্বর হামলার মূল নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিম এবং বিতর্কিত ইউপি সদস্য মোক্তার মেম্বার।
তবে ঘটনার পর রামু থানায় দায়ের করা মামলায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মামলার এজাহারে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামী করা হলেও অদ্ভুতভাবে বাদ পড়ে গেছে হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী মোক্তার মেম্বারের নাম।
ঘুষের বিনিময়ে এজাহার পরিবর্তনের অভিযোগ:
অনুসন্ধানে ও গোপন সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহার থেকে মোক্তার মেম্বারের নাম কেটে ফেলার পেছনে কাজ করেছে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন। অভিযোগ উঠেছে, মামলার বাদী ফরেস্টার মোস্তফা কামাল বিদ্যুৎকে মোটা অংকের টাকায় ‘ম্যানেজ’ করে কৌশলে মোক্তার মেম্বারের নাম তালিকা থেকে হাওয়া করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকর্মীদের রক্ত ঝরলেও এভাবে ব্যক্তিস্বার্থে আসামিকে রেহাই দেওয়ার ঘটনায় বন বিভাগের চরম গাফিলতি ও দুর্নীতির চিত্রই ফুটে উঠেছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
এদিকে ঘটনার প্রায় দেড় দিন (৩৩ ঘণ্টা) অতিক্রম হতে চললেও এ ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। দিনের আলোতে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এত বড় সন্ত্রাসী হামলার পর আসামীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এজাহারে প্রভাব খাটাচ্ছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী ফরেস্টার মোস্তফা কামাল বিদ্যুতের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে রামুর সচেতন নাগরিক সমাজ এবং নির্যাতিত বন কর্মকর্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি পুনর্নিরীক্ষণ এবং এজাহার পরিবর্তনকারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কক্সবাজার ফরেস্ট রেঞ্জারের ওপর নৃশংস হামলার ঘটনায় বিতর্কের মুখে মামলার এজাহার

আপডেট সময় : ১২:১৫:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

 

বন বিভাগের কর্মকর্তা ও সদস্যদের ওপর নৃশংস হামলার ৩৩ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। উল্টো ঘটনার মূল হোতাদের একজন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে উঠেছে মোটা অংকের লেনদেনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি খোদ বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
গত কাল সকালে সরকারি কাজে নিয়োজিত ফরেস্ট রেঞ্জার শরীফুল ইসলামসহ পাঁচ জন বন কর্মকর্তাকে ঘিরে ধরে মাথা ফাটিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর এ বর্বর হামলার মূল নেতৃত্বে ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা জসিম এবং বিতর্কিত ইউপি সদস্য মোক্তার মেম্বার।
তবে ঘটনার পর রামু থানায় দায়ের করা মামলায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। মামলার এজাহারে ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৮০ থেকে ৯০ জনকে আসামী করা হলেও অদ্ভুতভাবে বাদ পড়ে গেছে হামলার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী মোক্তার মেম্বারের নাম।
ঘুষের বিনিময়ে এজাহার পরিবর্তনের অভিযোগ:
অনুসন্ধানে ও গোপন সূত্রে জানা গেছে, মামলার এজাহার থেকে মোক্তার মেম্বারের নাম কেটে ফেলার পেছনে কাজ করেছে মোটা অংকের অর্থ লেনদেন। অভিযোগ উঠেছে, মামলার বাদী ফরেস্টার মোস্তফা কামাল বিদ্যুৎকে মোটা অংকের টাকায় ‘ম্যানেজ’ করে কৌশলে মোক্তার মেম্বারের নাম তালিকা থেকে হাওয়া করে দেওয়া হয়েছে। সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকর্মীদের রক্ত ঝরলেও এভাবে ব্যক্তিস্বার্থে আসামিকে রেহাই দেওয়ার ঘটনায় বন বিভাগের চরম গাফিলতি ও দুর্নীতির চিত্রই ফুটে উঠেছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
এদিকে ঘটনার প্রায় দেড় দিন (৩৩ ঘণ্টা) অতিক্রম হতে চললেও এ ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ প্রশাসন। দিনের আলোতে সরকারি কর্মকর্তাদের ওপর এত বড় সন্ত্রাসী হামলার পর আসামীরা কীভাবে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং এজাহারে প্রভাব খাটাচ্ছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী ফরেস্টার মোস্তফা কামাল বিদ্যুতের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে রামুর সচেতন নাগরিক সমাজ এবং নির্যাতিত বন কর্মকর্তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মামলাটি পুনর্নিরীক্ষণ এবং এজাহার পরিবর্তনকারীদের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।