ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একটি যুগের অবসান আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় মেসির

 

 

আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশে যেন নিভে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় জয় করা নিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০০৫ সালের শুরু হওয়া যাত্রা শেষ হলো ২০২৬ সালে, সংগ্রামের এক অনন্য ইতিহাস।

রোজারিওর ছোট্ট এক কিশোর, যার শারীরিক বৃদ্ধি নিয়ে এক সময় প্রশ্ন উঠেছিল, সেই ছেলেটি পরবর্তীতে হয়ে উঠলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। শৈশবে গ্রোথ হরমোন সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে বার্সেলোনার একাডেমিতে যোগ দেন মেসি। সেখান থেকে শুরু হয় তার কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর থেকেই প্রত্যাশার পাহাড় ছিল তার কাঁধে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য আসেনি সহজে। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয় বারবার স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা সঙ্গী হয়েছে মেসির। সমালোচনার তীরও কম ছুটে আসেনি তার দিকে। এমনকি ২০১৬ সালে হতাশ হয়ে একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা ও দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু কিংবদন্তিরা হার মানেন না। ভক্তদের ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে ফিরিয়ে আনে। এরপরই শুরু হয় ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জিতান তিনি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয় পূরণ করেন জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এরপর ২০২৪ সালে আরেকটি কোপা আমেরিকা শিরোপাও তুলে নেন অধিনায়ক হিসেবে।

জাতীয় দলের হয়ে মেসি খেলেছেন ২০৭ টি ম্যাচ এবং করেছেন ১২৫ টি গোল, যা আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন অসংখ্য রেকর্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ হয় আর্জেন্টিনা।

বিদায় বার্তায় মেসি বলেছেন, দেশের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। তিনি সব সময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং এখন নতুন প্রজন্মের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে বলে মনে করেন।

আজ মেসি বিদায় নিলেও তাঁর নাম, তাঁর জাদুগরি বাম পা, তাঁর চোখের জল, তাঁর হাসি এবং তার নেতৃত্ব ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। তিনি শুধু ফুটবলার নন, তিনি কোটি মানুষের স্বপ্ন, অনুপ্রেরণা এবং আবেগের আরেক নাম।

বিদায় মেসি! তুমি মাঠ ছাড়তে পারো,কিন্তু কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় থেকে কখনো বিদায় নেবে না। তোমার গল্প আগামী প্রজন্মকে শিখাবে…. ব্যর্থতা শেষ নয়, অধ্যাবশ্যই একদিন মানুষকে কিংবদন্তি করে তোলে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

একটি যুগের অবসান আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় মেসির

আপডেট সময় : ১১:০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

 

আন্তর্জাতিক ফুটবলের আকাশে যেন নিভে গেল এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। আর্জেন্টিনার জার্সিতে দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয় জয় করা নিওনেল মেসি আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০০৫ সালের শুরু হওয়া যাত্রা শেষ হলো ২০২৬ সালে, সংগ্রামের এক অনন্য ইতিহাস।

রোজারিওর ছোট্ট এক কিশোর, যার শারীরিক বৃদ্ধি নিয়ে এক সময় প্রশ্ন উঠেছিল, সেই ছেলেটি পরবর্তীতে হয়ে উঠলেন বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলার। শৈশবে গ্রোথ হরমোন সমস্যার সঙ্গে লড়াই করে বার্সেলোনার একাডেমিতে যোগ দেন মেসি। সেখান থেকে শুরু হয় তার কিংবদন্তি হয়ে ওঠার গল্প।

আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের হয়ে অভিষেকের পর থেকেই প্রত্যাশার পাহাড় ছিল তার কাঁধে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মঞ্চে সাফল্য আসেনি সহজে। ২০১৪ বিশ্বকাপ ফাইনালে জার্মানির কাছে হার, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকার ফাইনালে পরাজয় বারবার স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনা সঙ্গী হয়েছে মেসির। সমালোচনার তীরও কম ছুটে আসেনি তার দিকে। এমনকি ২০১৬ সালে হতাশ হয়ে একবার আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা ও দিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু কিংবদন্তিরা হার মানেন না। ভক্তদের ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে ফিরিয়ে আনে। এরপরই শুরু হয় ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। ২০২১ সালে আর্জেন্টিনাকে কোপা আমেরিকা জিতান তিনি। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয় পূরণ করেন জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। এরপর ২০২৪ সালে আরেকটি কোপা আমেরিকা শিরোপাও তুলে নেন অধিনায়ক হিসেবে।

জাতীয় দলের হয়ে মেসি খেলেছেন ২০৭ টি ম্যাচ এবং করেছেন ১২৫ টি গোল, যা আর্জেন্টিনার ইতিহাসের সর্বোচ্চ। ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে তিনি করেছেন অসংখ্য রেকর্ড। ২০২৬ বিশ্বকাপও দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন, যদিও শেষ পর্যন্ত স্পেনের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ হয় আর্জেন্টিনা।

বিদায় বার্তায় মেসি বলেছেন, দেশের জার্সি গায়ে চাপিয়ে মাঠে নামা ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয়। তিনি সব সময় নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন এবং এখন নতুন প্রজন্মের জন্য পথ ছেড়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে বলে মনে করেন।

আজ মেসি বিদায় নিলেও তাঁর নাম, তাঁর জাদুগরি বাম পা, তাঁর চোখের জল, তাঁর হাসি এবং তার নেতৃত্ব ফুটবল ইতিহাসে অমর হয়ে থাকবে। তিনি শুধু ফুটবলার নন, তিনি কোটি মানুষের স্বপ্ন, অনুপ্রেরণা এবং আবেগের আরেক নাম।

বিদায় মেসি! তুমি মাঠ ছাড়তে পারো,কিন্তু কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয় থেকে কখনো বিদায় নেবে না। তোমার গল্প আগামী প্রজন্মকে শিখাবে…. ব্যর্থতা শেষ নয়, অধ্যাবশ্যই একদিন মানুষকে কিংবদন্তি করে তোলে।