ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উমরপুর ইউনিয়নে কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত, স্বজনপ্রীতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে উত্তাল জনমত

 

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নে হাওরের অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত কৃষি প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এই প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জনপ্রতি ১৫ কেজি চাল ও ৩ হাজার টাকা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে তালিকা প্রকাশের পর থেকেই এতে ব্যাপক অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। অনেক প্রকৃত কৃষকের নাম তালিকায় স্থান না পেলেও কৃষিকাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের কৃষক খলকু মিয়া বলেন, “তালিকা তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।”

একই গ্রামের কৃষক সৈয়দ দবির আলী বলেন, “সরকার কৃষকদের সহায়তার জন্য যে প্রণোদনা দিয়েছে, তা সঠিকভাবে বণ্টনের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু তালিকা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন উঠেছে, তাতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয় সমাজসেবক দুলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি এই সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। আবার তালিকাভুক্তদের মধ্যে এমন অনেকের নাম রয়েছে, যাদের যোগ্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তির নামের পাশে ইউপি সদস্যের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

তিনি আরও বলেন, “সম্পূর্ণ তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি কিংবা তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও তালিকা যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে অন্যদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে চরম অন্যায় ও প্রতারণার শামিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সহিদ মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে ইউনিয়নের কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ভালো বলতে পারবেন। উমরপুর ইউনিয়নে এসব কার্যক্রম তারাই পরিচালনা করেন।”

এদিকে অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল। তাদের মতে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

উমরপুর ইউনিয়নে কৃষি প্রণোদনা বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: প্রকৃত কৃষক বঞ্চিত, স্বজনপ্রীতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগে উত্তাল জনমত

আপডেট সময় : ১২:৫৭:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

 

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলার উমরপুর ইউনিয়নে হাওরের অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের বরাদ্দকৃত কৃষি প্রণোদনা বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের এই প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধাভোগীর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জনপ্রতি ১৫ কেজি চাল ও ৩ হাজার টাকা সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। তবে তালিকা প্রকাশের পর থেকেই এতে ব্যাপক অসঙ্গতি ও অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। অনেক প্রকৃত কৃষকের নাম তালিকায় স্থান না পেলেও কৃষিকাজের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সৈয়দ মান্দারুকা গ্রামের কৃষক খলকু মিয়া বলেন, “তালিকা তৈরির পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল অস্বচ্ছ। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে অন্যদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।”

একই গ্রামের কৃষক সৈয়দ দবির আলী বলেন, “সরকার কৃষকদের সহায়তার জন্য যে প্রণোদনা দিয়েছে, তা সঠিকভাবে বণ্টনের দায়িত্ব ছিল সংশ্লিষ্টদের। কিন্তু তালিকা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন উঠেছে, তাতে পুরো প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই সন্দেহ তৈরি হয়েছে।”

স্থানীয় সমাজসেবক দুলাল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সরকারি এই সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন। আবার তালিকাভুক্তদের মধ্যে এমন অনেকের নাম রয়েছে, যাদের যোগ্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে অন্য ব্যক্তির নামের পাশে ইউপি সদস্যের মোবাইল নম্বর ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

তিনি আরও বলেন, “সম্পূর্ণ তালিকা পুনরায় যাচাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি কিংবা তথ্য গোপনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও তালিকা যাচাইয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার অভাবেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাদের দাবি, স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের মাধ্যমে সরকারি সহায়তা প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে অন্যদের হাতে পৌঁছে যাচ্ছে, যা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে চরম অন্যায় ও প্রতারণার শামিল।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং অভিযোগ তদন্তে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উম্মে তামিমার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

উমরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সহিদ মিয়া বলেন, “এ বিষয়ে ইউনিয়নের কৃষি বিভাগের মাঠকর্মীরা ভালো বলতে পারবেন। উমরপুর ইউনিয়নে এসব কার্যক্রম তারাই পরিচালনা করেন।”

এদিকে অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষক ও সচেতন মহল। তাদের মতে, কৃষকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা যাতে প্রকৃত উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ জরুরি।