সিলেটের ওসমানীনগরে সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় যুবদলকর্মী তুরন মিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও কোনো আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বজনরা। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) হুমায়ুন কবির-এর কাছে হাউমাউ করে কেঁদে বড় ভাই হত্যার বিচার দাবি করেন নিহতের ছোট ভাই এলাইছ মিয়া।
জানা যায়, গত ১৯ জুন ওসমানীনগর উপজেলার দয়ামীর ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর রাইকদাড়া গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর ছেলে ও যুবদলকর্মী তুরন মিয়ার মরদেহ নিজ বাড়ি থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের দাবি, গ্রামের রাস্তার সরকারি উন্নয়নকাজে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে নারাজ পুলিশ।
পরিবারের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী মহল হত্যাকাণ্ডকে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে প্রচার করে প্রকৃত ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে নিহতের পরিবার।
গত ১ জুলাই সরকারি সফরে ওসমানীনগরে এসে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচিতে অংশ নেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। উপজেলা অডিটোরিয়ামে নেতাকর্মীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের সময় নিহতের ছোট ভাই এলাইছ মিয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে উপদেষ্টাকে জড়িয়ে ধরে বলেন, “স্যার, আমার ভাই হত্যার বিচার চাই। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
পরে উপদেষ্টা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। সফর শেষে ঢাকা ফেরার পথে তিনি সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেকের সঙ্গে কথা বলে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৬ জুন তুরন মিয়া নিজ বাড়িতে প্রতিবেশীদের হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় প্রাণনাশের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি ওসমানীনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও প্রভাবশালীদের চাপে সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি বলে পরিবারের দাবি। পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার দ্বারস্থ হলেও কোনো প্রতিকার পাননি।
পরিবার আরও অভিযোগ করে, পরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি শালিসের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। কিন্তু তুরন মিয়া মামলা থেকে সরে আসতে অস্বীকৃতি জানান। এরপরই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের পরিবারের দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি ছাড়াও যারা পরিকল্পনা, প্ররোচনা এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে, তাদেরও আইনের আওতায় আনা উচিত। অথচ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করায় তারা হতাশ।
নিহতের ছোট ভাই এলাইছ মিয়া বলেন, “আমার ভাই সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে যারা কলকাঠি নেড়েছে এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদেরও আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। আমরা শুধু সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”
এ বিষয়ে সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ওসমানীনগর সার্কেল) মানছুরা আক্তার বলেন, “বিষয়টি শুরু থেকেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরদারিতে রয়েছে। প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করতে পুলিশের গোয়েন্দা টিম কাজ করছে।”
উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে ভাই হত্যার বিচার চাইলেন এলাইছ
-
মো:রাজন আহমদ স্টাফ রিপোর্টার, - আপডেট সময় : ১২:০২:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬
- 39
জনপ্রিয় সংবাদ




















