ঢাকা ০১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইজারা বন্ধ, তবুও তেঁতুলিয়ায় অব্যাহত বালু উত্তোলন; নদীভাঙনের ঝুঁকিতে তীরবর্তী জনপদ

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে সরকারি ইজারা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও থেমে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দিনের পাশাপাশি রাতেও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা ও নিমদী, কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর ও মঠবাড়িয়া, কাজীপাড়া ইউনিয়নের কারখানা এবং চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে বহু বসতভিটা, কৃষিজমি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হয়। এরপর থেকেই নদীর পাড় দ্রুত ভাঙতে শুরু করেছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান হলেও কিছুদিন পর আবার একইভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়।

নিমদী গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, তাদের কয়েক বিঘা কৃষিজমি ইতোমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন বসতভিটাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় চলতি বছরে তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীতে কোনো বালুমহাল বা জলমহালের ইজারা দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলামের আবেদনের পর ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি কালাইয়া পয়েন্টে দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় কয়েকজন স্থানীয় ট্রলার নিয়ে বাধা দিতে গেলে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি এম. এ. বশার বলেন, অপরিকল্পিত ও অবৈধ ড্রেজিং নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি তীরবর্তী বসতি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা এবং নদীভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, নদীভাঙনের ঝুঁকির কারণে চলতি বছর তেঁতুলিয়া নদীর কোনো অংশে বালুমহাল বা জলমহালের ইজারা দেওয়া হয়নি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ বিভ্রাটে রোগীদের স্বস্তি দিতে রায়পুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আইপিএস-সোলার ও ফ্যান

ইজারা বন্ধ, তবুও তেঁতুলিয়ায় অব্যাহত বালু উত্তোলন; নদীভাঙনের ঝুঁকিতে তীরবর্তী জনপদ

আপডেট সময় : ০৫:৫৯:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীতে সরকারি ইজারা কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও থেমে নেই অবৈধ বালু উত্তোলন। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি প্রভাবশালী চক্র দিনের পাশাপাশি রাতেও ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। এতে নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনের আশঙ্কা আরও বাড়ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বড় ডালিমা ও নিমদী, কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর ও মঠবাড়িয়া, কাজীপাড়া ইউনিয়নের কারখানা এবং চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ইতোমধ্যে ব্যাপক নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে বহু বসতভিটা, কৃষিজমি, সড়ক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

বড় ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল করিম বলেন, প্রায় প্রতিদিনই ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হয়। এরপর থেকেই নদীর পাড় দ্রুত ভাঙতে শুরু করেছে। মাঝে মধ্যে প্রশাসনের অভিযান হলেও কিছুদিন পর আবার একইভাবে বালু উত্তোলন শুরু হয়।

নিমদী গ্রামের হাবিবুর রহমান জানান, তাদের কয়েক বিঘা কৃষিজমি ইতোমধ্যেই নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন বসতভিটাও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে আরও অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নদীভাঙনের ঝুঁকি বিবেচনায় চলতি বছরে তেঁতুলিয়া ও লোহালিয়া নদীতে কোনো বালুমহাল বা জলমহালের ইজারা দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলামের আবেদনের পর ইজারা কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়।

স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি কালাইয়া পয়েন্টে দুটি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের সময় কয়েকজন স্থানীয় ট্রলার নিয়ে বাধা দিতে গেলে সংশ্লিষ্টরা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।

পরিবেশ সচেতন ব্যক্তি এম. এ. বশার বলেন, অপরিকল্পিত ও অবৈধ ড্রেজিং নদীর তলদেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। এর ফলে নদীর গতিপথ পরিবর্তনের পাশাপাশি তীরবর্তী বসতি, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, অবৈধ বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ অভিযান পরিচালনা এবং নদীভাঙনকবলিত এলাকায় দ্রুত স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হোক।

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালেহ আহমেদ বলেন, নদীভাঙনের ঝুঁকির কারণে চলতি বছর তেঁতুলিয়া নদীর কোনো অংশে বালুমহাল বা জলমহালের ইজারা দেওয়া হয়নি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।