চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বারশত গ্রামে একটি ডেইরি ফার্মে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও আনোয়ারা থানার যৌথ অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৩ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাসসহ দেশীয় অস্ত্র ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ জুন (২০২৬) দিবাগত রাতে ১০-১২ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল বারশত গ্রামের “দীপক ডেইরি ফার্ম”-এ হানা দেয়। ডাকাতরা খামারের মালিক ও কর্মরত কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি ও মারধর করে নগদ ১ লাখ টাকা, আনুমানিক ৩ ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং ৫টি উন্নত জাতের গরুসহ প্রায় ১৩ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকার মালামাল লুটে নিয়ে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরবর্তীতে আনোয়ারা থানায় একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করা হয়।
প্রযুক্তির ছোঁয়ায় যেভাবে ধরা পড়ল অপরাধীরা
ঘটনার পরপরই চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম-এর সরাসরি নির্দেশনায় ডিবি ও আনোয়ারা থানার সমন্বয়ে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার এবং নিবিড় গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে ডাকাত চক্রটিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ জুলাই (২০২৬) আনোয়ারা থানাধীন লাবিবা ক্লাবের বিপরীত পার্শ্বে অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের দুই মূল হোতাকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন:
ইয়াছিন আরাফাত (২৬)
আল মামুন তুষার লিটন (৩১)
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে লুণ্ঠিত গরুর ক্রেতা মোঃ মানিক ওরফে হেকসাই মানিক (৪৫)-কে গ্রেফতার করা হয়।
জব্দকৃত আলামত
অভিযানকালে গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি মাইক্রোবাস ছাড়াও বেশ কিছু আলামত উদ্ধার করা হয়:
১টি ধারালো ছোরা
তালা কাটার যন্ত্র (ক্যাবল কাটার)
লোহার রড
আদালতে স্বীকারোক্তি ও অপরাধের খতিয়ান:
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ইয়াছিন আরাফাত ও আল মামুন তুষার লিটন বিজ্ঞ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, ইয়াছিন আরাফাতের বিরুদ্ধে পূর্বের ৯টি এবং আল মামুনের বিরুদ্ধে হত্যাসহ ৩টি বিভিন্ন অপরাধের মামলা রয়েছে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই দুধর্ষ ডাকাতির ঘটনার সাথে জড়িত চক্রের অন্যান্য পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত বাকি মালামাল উদ্ধারে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও আনোয়ারা থানার যৌথ সাঁড়াশি অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
পারভেজ বাঙালী। চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি। 



















