দরজায় কড়া নাড়ছে রমজান। আর এই সময়ে মুসলমানদের ঘরে নানা খাবারের আয়োজন হয়। সেখানে ব্যবহার হয় নানা মসলারও। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আদা-রসুন।
শুধু রমজানই নয়, অন্য যেকোনো সময়েও এই মসলার প্রয়োজনীয়তা কম নয়।
গরম মশলার সঙ্গে আদা-রসুনের পেস্ট প্রায় প্রতিটি তরকারির স্বাদ কয়েক ধাপ বাড়িয়ে দেয়। এই কারণেই আজকাল বিদেশিরাও আমাদের দেশীয় খাবারের ভক্ত হয়ে উঠছেন।
সময় বাঁচাতে অনেকেই একবারে বেশি করে আদা-রসুন বেটে রেখে দেন।
কিন্তু সমস্যা শুরু হয় কয়েক দিনের মধ্যেই পেস্টের রং বদলে যায়, সবুজ বা কালচে হয়ে ওঠে, আর আসল গন্ধও উধাও হয়ে যায়। এতে রান্নার স্বাদও নষ্ট হয়। তবে কিছু সহজ নিয়ম মানলেই আদা-রসুনের পেস্ট মাসের পর মাস টাটকা রাখা সম্ভব।
পেস্ট তৈরির সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
আদা ও রসুনে আর্দ্রতা বেশি থাকায় এগুলো দ্রুত নষ্ট হয়।
তাই পেস্ট বানানোর আগে আদা ভালো করে ধুয়ে সম্পূর্ণ শুকিয়ে নিন। খোসা ছাড়ানোর পর শুকনা কাপড় দিয়ে মুছে নিন, যেন এক ফোঁটাও পানি না থাকে। মনে রাখবেন, পিষতে গিয়ে কখনোই পানি দেবেন না, পানির পরিবর্তে অল্প তেল ব্যবহার করুন।
লবণ ও তেল—প্রাকৃতিক সংরক্ষণকারী
আদা-রসুন বাটার সময় এক চা-চামচ লবণ এবং ২–৩ চা-চামচ সরিষার তেল বা পরিশোধিত তেল যোগ করুন। লবণ ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি রোধ করে, আর তেল পেস্টের আর্দ্রতা ধরে রেখে রং ও গন্ধ ঠিক রাখে।
ভিনেগার দিলে পেস্ট থাকবে আরো দীর্ঘদিন ভালো থাকবে
লবণ ও তেলের সঙ্গে এক টেবিল-চামচ সাদা ভিনেগার যোগ করলে পেস্ট ২–৩ মাস পর্যন্ত ভালো থাকে। ভিনেগার পেস্টের পিএইচ নিয়ন্ত্রণে রাখে, জারণ প্রক্রিয়া ধীর করে এবং স্বাদ অটুট রাখে।
সংরক্ষণের সঠিক পদ্ধতি
পেস্ট তৈরি হয়ে গেলে সেটি সংরক্ষণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। কখনোই প্লাস্টিকের পাত্রে রাখবেন না, এতে গন্ধ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সব সময় বায়ুরোধী কাচের বয়ামে আদা-রসুন পেস্ট রাখুন এবং ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
আর যদি ৬ মাস পর্যন্ত রাখতে চান, তাহলে আইস কিউব ট্রেতে পেস্ট ঢেলে ফ্রিজারে জমিয়ে নিন। পরে জমে গেলে কিউবগুলো জিপ-লক ব্যাগে ভরে রেখে দিন। রান্নার সময় প্রয়োজনমতো একটি কিউব বের করে সরাসরি কড়াইতে ব্যবহার করুন—ঝামেলাও কম, স্বাদও অটুট।
অনলাইন ডেস্ক, 

























