ঢাকা ০৫:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

​আগৈলঝাড়ায় ফলজ গাছ রোপণে বাধা: চাচার হামলায় ব্যবসায়ী নিপু মণ্ডল গুরুতর আহত

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারোপাইকা গ্রামে ফলজ গাছ রোপণকে কেন্দ্র করে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের হামলায় নিপু মণ্ডল (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত নিপু মণ্ডল ওই গ্রামের নারদ মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয় বারোপাইকা বাজারের একজন ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী।
​স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নিপু মণ্ডল তার বসতঘরের সামনের আঙিনায় একটি পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করতে গেলে তার আপন চাচা মহাদেব মণ্ডল (পিতা: ধনঞ্জয় মণ্ডল) এতে বাধা দেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মহাদেব মণ্ডল নিপু মণ্ডলকে কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও জুতা দিয়ে পেটাতে থাকেন।
​ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। মহাদেব মণ্ডল ঢাকায় অবস্থানরত তার দুই ছেলেকে খবর দিয়ে বাড়িতে আনেন। গতকাল ১ আগস্ট নিপু মণ্ডলকে তার দোকান থেকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। আগে থেকেই ওত পেতে থাকা চাচাতো ভাই মিঠুন মণ্ডল (৩০), দিকবিজয় মণ্ডল (৩৫), চাচা মহাদেব মণ্ডল এবং সহযোগী নান্টু কীর্তনীয়া (৩৫) ও শুকলাল বাড়ৈ (৫০) লাঠিসোটা নিয়ে নিপু মণ্ডল ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
​হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী নিপু মণ্ডল বলেন, “তারা আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকলে আমি জীবন বাঁচাতে ছোটাছুটি করি। আমার পিঠে, ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত করা হয়। চোখে তীব্র ঘুষি মারায় আমি বাম চোখে এখন কিছু দেখতে পাচ্ছি না এবং চোখ খুলতেও পারছি না। আমার স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।”
​একপর্যায়ে নিপু মণ্ডল দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার স্ত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
​অভিযোগের পর পরই অভিযুক্ত মিঠুন মণ্ডল ও দিকবিজয় মণ্ডল ঢাকায় পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। আহত নিপু মণ্ডল তার বাবার ন্যায্য সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি এই বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

​আগৈলঝাড়ায় ফলজ গাছ রোপণে বাধা: চাচার হামলায় ব্যবসায়ী নিপু মণ্ডল গুরুতর আহত

আপডেট সময় : ০৬:৪১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বারোপাইকা গ্রামে ফলজ গাছ রোপণকে কেন্দ্র করে আপন চাচা ও চাচাতো ভাইদের হামলায় নিপু মণ্ডল (৩৫) নামের এক ব্যবসায়ী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত নিপু মণ্ডল ওই গ্রামের নারদ মণ্ডলের ছেলে এবং স্থানীয় বারোপাইকা বাজারের একজন ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী।
​স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, নিপু মণ্ডল তার বসতঘরের সামনের আঙিনায় একটি পেয়ারা গাছের চারা রোপণ করতে গেলে তার আপন চাচা মহাদেব মণ্ডল (পিতা: ধনঞ্জয় মণ্ডল) এতে বাধা দেন। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই মহাদেব মণ্ডল নিপু মণ্ডলকে কিল-ঘুষি, চড়-থাপ্পড় ও জুতা দিয়ে পেটাতে থাকেন।
​ঘটনা এখানেই শেষ হয়নি। মহাদেব মণ্ডল ঢাকায় অবস্থানরত তার দুই ছেলেকে খবর দিয়ে বাড়িতে আনেন। গতকাল ১ আগস্ট নিপু মণ্ডলকে তার দোকান থেকে বাড়িতে ডেকে নেওয়া হয়। আগে থেকেই ওত পেতে থাকা চাচাতো ভাই মিঠুন মণ্ডল (৩০), দিকবিজয় মণ্ডল (৩৫), চাচা মহাদেব মণ্ডল এবং সহযোগী নান্টু কীর্তনীয়া (৩৫) ও শুকলাল বাড়ৈ (৫০) লাঠিসোটা নিয়ে নিপু মণ্ডল ঘর থেকে বের হওয়া মাত্রই তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
​হামলার বিষয়ে ভুক্তভোগী নিপু মণ্ডল বলেন, “তারা আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে থাকলে আমি জীবন বাঁচাতে ছোটাছুটি করি। আমার পিঠে, ঘাড়ে ও মাথায় আঘাত করা হয়। চোখে তীব্র ঘুষি মারায় আমি বাম চোখে এখন কিছু দেখতে পাচ্ছি না এবং চোখ খুলতেও পারছি না। আমার স্ত্রী আমাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয়।”
​একপর্যায়ে নিপু মণ্ডল দৌড়ে পালিয়ে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। তার স্ত্রী প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
​অভিযোগের পর পরই অভিযুক্ত মিঠুন মণ্ডল ও দিকবিজয় মণ্ডল ঢাকায় পালিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। আহত নিপু মণ্ডল তার বাবার ন্যায্য সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার দাবি জানানোর পাশাপাশি এই বর্বরোচিত হামলার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।