ঢাকা ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অশ্রুসিক্ত নয়নে, ফুলসজ্জিত গাড়িতে রাণীশংকৈলের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল ফজলুরকে বিদায়

দীর্ঘ ৩৩ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ইতি টেনে বাংলাদেশ পুলিশ থেকে অবসর নিয়েছেন রাণীশংকৈল থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ফজলুর রহমান। বিদায়বেলায় তিনি পেয়েছেন রাজকীয় সংবর্ধনা, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সহকর্মীদের অকৃত্রিম ভালোবাসা।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনের উদ্যোগে এবং রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমানুল্লাহ আল-বারীর আয়োজনে থানা চত্বরে এক আবেগঘন বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওসি মো. আমানুল্লাহ আল-বারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, সেকেন্ড অফিসার এসআই রহমাতুল্লাহ রনি, এসআই রতন, এসআই সাধন, এএসআই মিজানুর রহমান সজিব, এএসআই মাহবুবুর মোর্শেদ, এএসআই ফিরোজ, এএসআই বেলাল, এএসআই আবুল হোসেন, থানার মুন্সি জয়নুল আবেদীনসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ফজলুর রহমানের একমাত্র পুত্র সন্তান।

বিদায় অনুষ্ঠানে সহকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পরে ফুলসজ্জিত গাড়িতে করে রাণীশংকৈল থানার পক্ষ থেকে তাকে তার নিজ বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতোর ভদ্রপাড়া গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতোর ভদ্রপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে ফজলুর রহমান ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এসএসসি পাস করার পর ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে মিরপুর ডাঙ্গা ভবন, বান্দরবান, সিলেট রেঞ্জ অফিস, হবিগঞ্জ সদর এবং সর্বশেষ রাণীশংকৈল থানায় নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

অবসরকালীন সংবর্ধনায় আবেগাপ্লুত ফজলুর রহমান বলেন, “পুলিশের চাকরিতে একজন কনস্টেবলের অবসর সাধারণ ঘটনা। সাধারণত কনস্টেবলদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দেওয়া হয় না। কিন্তু আমার বেলায় ভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এই বিদায় সংবর্ধনা আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাগুলোর একটি হয়ে থাকবে। এমন সম্মান পাব, কখনও ভাবিনি।”

রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমানুল্লাহ আল-বারী বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে ফজলুর রহমান নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অবসরকে স্মরণীয় করে রাখতে এ আয়োজন করা হয়েছে। বিদায়বেলায় তার মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরাও আনন্দিত।”

অশ্রুসিক্ত নয়নে, ফুলের শুভেচ্ছা আর সহকর্মীদের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন কনস্টেবল ফজলুর রহমান। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার স্মৃতি রাণীশংকৈল থানা পরিবারের সদস্যদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

অশ্রুসিক্ত নয়নে, ফুলসজ্জিত গাড়িতে রাণীশংকৈলের অবসরপ্রাপ্ত কনস্টেবল ফজলুরকে বিদায়

আপডেট সময় : ০৭:৫২:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ ৩৩ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের ইতি টেনে বাংলাদেশ পুলিশ থেকে অবসর নিয়েছেন রাণীশংকৈল থানায় কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল ফজলুর রহমান। বিদায়বেলায় তিনি পেয়েছেন রাজকীয় সংবর্ধনা, ফুলেল শুভেচ্ছা এবং সহকর্মীদের অকৃত্রিম ভালোবাসা।

বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেনের উদ্যোগে এবং রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আমানুল্লাহ আল-বারীর আয়োজনে থানা চত্বরে এক আবেগঘন বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওসি মো. আমানুল্লাহ আল-বারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম, সেকেন্ড অফিসার এসআই রহমাতুল্লাহ রনি, এসআই রতন, এসআই সাধন, এএসআই মিজানুর রহমান সজিব, এএসআই মাহবুবুর মোর্শেদ, এএসআই ফিরোজ, এএসআই বেলাল, এএসআই আবুল হোসেন, থানার মুন্সি জয়নুল আবেদীনসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ফজলুর রহমানের একমাত্র পুত্র সন্তান।

বিদায় অনুষ্ঠানে সহকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। পরে ফুলসজ্জিত গাড়িতে করে রাণীশংকৈল থানার পক্ষ থেকে তাকে তার নিজ বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতোর ভদ্রপাড়া গ্রামে পৌঁছে দেওয়া হয়।

জানা যায়, পীরগঞ্জ উপজেলার ভেলাতোর ভদ্রপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল করিমের ছেলে ফজলুর রহমান ১৯৭৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। এসএসসি পাস করার পর ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে কনস্টেবল পদে যোগদান করেন তিনি। দীর্ঘ কর্মজীবনে মিরপুর ডাঙ্গা ভবন, বান্দরবান, সিলেট রেঞ্জ অফিস, হবিগঞ্জ সদর এবং সর্বশেষ রাণীশংকৈল থানায় নিষ্ঠা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

অবসরকালীন সংবর্ধনায় আবেগাপ্লুত ফজলুর রহমান বলেন, “পুলিশের চাকরিতে একজন কনস্টেবলের অবসর সাধারণ ঘটনা। সাধারণত কনস্টেবলদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় দেওয়া হয় না। কিন্তু আমার বেলায় ভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এই বিদায় সংবর্ধনা আমার জীবনের সবচেয়ে স্মরণীয় ঘটনাগুলোর একটি হয়ে থাকবে। এমন সম্মান পাব, কখনও ভাবিনি।”

রাণীশংকৈল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমানুল্লাহ আল-বারী বলেন, “দীর্ঘ কর্মজীবনে ফজলুর রহমান নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার অবসরকে স্মরণীয় করে রাখতে এ আয়োজন করা হয়েছে। বিদায়বেলায় তার মুখে হাসি ফোটাতে পেরে আমরাও আনন্দিত।”

অশ্রুসিক্ত নয়নে, ফুলের শুভেচ্ছা আর সহকর্মীদের ভালোবাসায় বিদায় নিলেন কনস্টেবল ফজলুর রহমান। তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার স্মৃতি রাণীশংকৈল থানা পরিবারের সদস্যদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অম্লান হয়ে থাকবে।