ঢাকা ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অনলাইনে জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার: তরুণ সমাজ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

 

 

প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সঙ্গে দেশে অনলাইনভিত্তিক জুয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজেই জুয়ার আসরে যুক্ত হচ্ছে তরুণসহ নানা বয়সী মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে অনেককে জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনলাইন জুয়ার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এতে অংশগ্রহণের জন্য সরাসরি কোনো জুয়ার আড্ডায় যেতে হয় না। ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে জুয়ায় অংশ নেওয়া সম্ভব। ফলে বিষয়টি অনেকটা অগোচরেই ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় জুয়ায় জড়িয়ে পড়ে একপর্যায়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সামাজিক জীবনে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ ধরনের আসক্তি ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেন, প্রতারণা ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। জুয়ার বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার মাধ্যমে নতুন ব্যবহারকারী আকৃষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম, প্রচারণা ও অর্থ লেনদেনের পথ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। অবৈধ জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এসব প্ল্যাটফর্মের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমগুলো চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করতে হবে। গণমাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে দায়িত্বশীল নজরদারি প্রয়োজন।
অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে জুয়ার আসক্তি থেকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রযুক্তির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

অনলাইনে জুয়ার ভয়াবহ বিস্তার: তরুণ সমাজ রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি

আপডেট সময় : ০৭:০৯:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

 

 

প্রযুক্তির সহজলভ্যতার সঙ্গে দেশে অনলাইনভিত্তিক জুয়ার প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট ব্যবহার করে বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সহজেই জুয়ার আসরে যুক্ত হচ্ছে তরুণসহ নানা বয়সী মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে অনেককে জুয়ার প্রতি আকৃষ্ট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনলাইন জুয়ার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো—এতে অংশগ্রহণের জন্য সরাসরি কোনো জুয়ার আড্ডায় যেতে হয় না। ঘরে বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে জুয়ায় অংশ নেওয়া সম্ভব। ফলে বিষয়টি অনেকটা অগোচরেই ছড়িয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়ার কারণে অনেক মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। কেউ কেউ দ্রুত অর্থ উপার্জনের আশায় জুয়ায় জড়িয়ে পড়ে একপর্যায়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। এর প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সামাজিক জীবনে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ ধরনের আসক্তি ভবিষ্যতের জন্য বড় ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেন, প্রতারণা ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধের ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। জুয়ার বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার মাধ্যমে নতুন ব্যবহারকারী আকৃষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে। ফলে শুধু ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্ম, প্রচারণা ও অর্থ লেনদেনের পথ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
সচেতন নাগরিকদের দাবি, অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে। অবৈধ জুয়ার ওয়েবসাইট ও অ্যাপ শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি এসব প্ল্যাটফর্মের প্রচারণা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ অর্থ লেনদেনের মাধ্যমগুলো চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরিবার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকেও অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করতে হবে। গণমাধ্যমে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানোর পাশাপাশি অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে দায়িত্বশীল নজরদারি প্রয়োজন।
অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও সাধারণ জনগণকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে জুয়ার আসক্তি থেকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় প্রযুক্তির সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অনলাইন জুয়ার বিস্তার ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ সামাজিক সংকট তৈরি করতে পারে।