হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় এক কলেজছাত্রের বিরুদ্ধে মুসলিম তরুণীদের সঙ্গে কথিত ‘লাভ ট্র্যাপ’-এর মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিধিসম্মত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাহুবল উপজেলা খাদিমুল কোরআন পরিষদের নেতৃবৃন্দ মিরপুর আলিফ সোবহান চৌধুরী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা শিক্ষার্থীর নাম জে.পি. পিয়াল বিশ্বাস। তিনি উপজেলার লামা পুটিজুরী গ্রামের প্রবাসী বাবুল কুমার বিশ্বাসের ছেলে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টের সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে জে.পি. পিয়ালকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট, ছবি ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। এসব পোস্টে দাবি করা হয়, তিনি কলেজের কয়েকজন মুসলিম ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তাদের কথিত ‘লাভ ট্র্যাপ’-এ ফেলছেন। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে আসে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, এ বিষয়ে থানায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে খাদিমুল কোরআন পরিষদের নেতৃবৃন্দ কলেজ অধ্যক্ষ হোসাইন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
খাদিমুল কোরআন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল হাই বাহুবলী বলেন, চলমান বিষয়টি নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। পরিষদের পক্ষ থেকে চার দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে।
পরিষদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অভিযুক্ত শিক্ষার্থী জে.পি. পিয়ালকে অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার অঙ্গীকার নেওয়া; নারী শিক্ষার্থীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে দ্রুত বহিষ্কার করা; শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শালীন, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা; এবং যেসব ছাত্রীকে ঘিরে অভিযোগ উঠেছে, তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিধিসম্মত ব্যবস্থা নেওয়া।
মাওলানা আব্দুল হাই বাহুবলী আরও বলেন, কলেজ অধ্যক্ষ তাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে মূল্যায়ন করেছেন। বিষয়টি পূর্ণাঙ্গভাবে তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অধ্যক্ষ আগামীকালের মধ্যে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা ডেকে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে কলেজ অধ্যক্ষ হোসাইন আহমদের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান হাফেজ কামরুল ইসলাম, মাওলানা মাহমুদুল হাসান সালিম, মুফতি লোকমান আহমদ, কাজী মাওলানা আব্দুল হাই, মাওলানা হাফিজুর রহমানসহ স্থানীয় ওলামায়ে কেরাম ও তরুণ আলেমরা।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লাভ ট্র্যাপ’ অভিযোগে বাহুবলে আলোচনা-সমালোচনা কলেজ অধ্যক্ষের কাছে ওলামায়ে কেরামের ৪ দফা দাবি
-
মোঃ সমুজ আলী রানা বাহুবল হবিগঞ্জ - আপডেট সময় : ০৬:৫৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 33
জনপ্রিয় সংবাদ




















