রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন বনাঞ্চল রক্ষা করা দায় হয়ে পড়ে। কক্সবাজার দক্ষিণ বনবিভাগের টেকনাফস্থ হোয়াইক্যং ও শামলাপুর বিটের পাহাড়ি সীমান্তে ঠিক এমন চিত্রই ফুটে উঠেছে। শামলাপুর-হোয়াইক্যং ঢালা সড়কের মনখালী খাল সংলগ্ন ওজন বনিয়া পাহাড়ে তাণ্ডব চালিয়ে সংরক্ষিত সৃজিত বাগানের অগণিত মূল্যবান বৃক্ষ নিধন ও পাহাড়ি জমি দখলের একচ্ছত্র সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে মনতলিয়া বিটে কর্মরত মুন্সি মোহাম্মদ ইউসুফের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় অধিবাসী ও সরেজমিন তদন্তে জানা যায়, মনখালী খালের উত্তর-দক্ষিণ পাশ জুড়ে বিস্তৃত হোয়াইক্যং ও শামলাপুর বিটের এই কৌশলগত সীমান্ত এলাকাকে ইউসুফ তাঁর অপকর্মের নিরাপদ অঞ্চল হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দুই বিটের মধ্যবর্তী সীমানা হওয়ায় প্রশাসনিক নজরদারির যে শিথিলতা তৈরি হয়, তাকে পুঁজি করে টানা এক বছর ধরে ইউসুফ অসাধু কাঠ ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশে সরকারি গাছ উজাড় করছেন। সাম্প্রতিক সময়ে গত ৩০ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তিন দিন আধুনিক পাওয়ার ট্রিমার ও প্রযুক্তিভিত্তিক করাত ব্যবহার করে দিনদুপুরে এবং রাতের আঁধারে শত শত ছোট-বড় গাছ কেটে সাবাড় করা হয়েছে।
ইউসুফের অপকর্মের পরিধি কেবল বৃক্ষ নিধনেই সীমাবদ্ধ নয়; অভিযোগ রয়েছে, বনবিভাগের কর্মচারী পদের প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি টাকার বিনিময়ে অবৈধভাবে কেনাবেচা ও পাহাড়ি ভূমি দখলের এক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন তিনি। বনজ সম্পদ চুরি, পাহাড় কাটা এবং অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে স্থানীয়রা একাধিক লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ জানালেও অদৃশ্য শক্তির ছত্রচ্ছায়ায় তিনি অধরা রয়ে গেছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে কাঠ পাচার ও বনাঞ্চল ধ্বংস করে তিনি আইন প্রযোগকারী সংস্থা ও বনবিভাগের প্রশাসনিক নিরাপত্তাবেষ্টনীকে বারবার বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যাচ্ছেন।
অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃক্ষ নিধনের ফলে এলাকার বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বর্ষাকালে উজার হওয়া পাহাড়গুলোতে মারাত্মক ভূমিধসের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। টেকনাফের স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন ও সচেতন নাগিক সমাজ অবিলম্বে এই চক্রের মূলহোতা মুন্সি মোহাম্মদ ইউসুফ এবং তাঁর সহযোগীদের গ্রেপ্তারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
যোগাযোগ করা হলে হোয়াইক্যং ও শামলাপুর বিট কর্মকর্তারা জানান, সরকারি বনসম্পদ ধ্বংসকারী কারোর ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। উত্থাপিত অভিযোগগুলো দ্রুত তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
টেকনাফে প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন 



















