হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় বিষাক্রান্ত অবস্থায় রুমানা আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে মৃত্যুর পর স্বামীর বাড়ির লোকজন হাসপাতালে লাশ রেখে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হলে তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নিহত রুমানা আক্তার উপজেলার ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব জয়পুর গ্রামের আব্দুল মালেকের স্ত্রী। তাঁর ছয় বছর ও পাঁচ মাস বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে রুমানা আক্তার বিষাক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্বামীর বাড়ির লোকজন তাঁকে দ্রুত হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
রুমানার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর স্বামীর বাড়ির লোকজন হাসপাতাল থেকে সরে যান বলে স্বজনদের অভিযোগ। পরে তাঁরা আর হাসপাতালে ফিরে আসেননি। এ ঘটনায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে সন্দেহ ও নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রুমানা আক্তার ছিলেন আব্দুল মালেকের দ্বিতীয় স্ত্রী। তাঁর প্রথম স্ত্রী লাকি আক্তার। প্রথম স্ত্রীর কোনো সন্তান নেই। দ্বিতীয় স্ত্রী রুমানার দুই সন্তান রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, সম্প্রতি সাড়ে তিন হাজার টাকা মূল্যের একটি সিলিং ফ্যান কেনাকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। তাঁদের দাবি, ফ্যান কেনার জন্য প্রথম স্ত্রী লাকি আক্তার স্বামীকে দুই হাজার টাকা দেন। পরে আব্দুল মালেক আরও দেড় হাজার টাকা যোগ করে সাড়ে তিন হাজার টাকা দিয়ে ফ্যানটি কেনেন। পরবর্তী সময়ে এ বিষয়টি নিয়ে দ্বিতীয় স্ত্রী রুমানা আক্তারের সঙ্গে তাঁর স্বামীর কথা কাটাকাটি হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
তবে ফ্যান কেনাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সঙ্গে রুমানার মৃত্যুর কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণও তদন্তের আগে বলা সম্ভব নয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে রুমানার মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাটি তদন্তে তৎপর হয়েছে। বাহুবল মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রুহুল আমিন তালুকদার বলেন, বিষয়টি জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের মর্গে লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রুমানার ভাই মুহিত আলী জানান, হবিগঞ্জ সদর থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) হাসপাতাল মর্গে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছেন। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন।
রুমানা আক্তারের মৃত্যুকে ঘিরে স্বজনদের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তিনি কীভাবে বিষাক্রান্ত হলেন, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশি তদন্তে এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে বলে আশা করছে পরিবার ও স্থানীয়রা।
দুই শিশুসন্তানের মা রুমানার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায়ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা।
বাহুবলে বিষাক্রান্ত গৃহবধূর মৃত্যু হাসপাতালে লাশ রেখে স্বামীর বাড়ির লোকজনের আত্মগোপন, মৃত্যুকে ঘিরে রহস্য
-
মোঃ সমুজ আলী রানা,বাহুবল (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি - আপডেট সময় : ০১:২০:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 143
জনপ্রিয় সংবাদ



















