ঢাকা ১২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎রাজনগরে গৃহবধূকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ওসি এনামুল হকের নেতৃত্বে স্বামী ও তার বন্ধু গ্রেপ্তার

‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে বিয়ের পর এক গৃহবধূকে স্বামীর বন্ধুর মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে রাজনগর থানা পুলিশ।

‎গ্রেপ্তার দুজন হলেন—রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা-বাগানের মৃত মতিহাস মুন্ডার ছেলে সাজন মুন্ডা (২৭) ও লাচানা গোয়ালার ছেলে অজয় গোয়ালা (২২)।

‎পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মোমিনছড়া চা-বাগানের ২১ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে সাজন মুন্ডার পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। এ সময় মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।

‎ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৯ মার্চ সাজন ফোন করে তাকে জানান, বিয়ের পর প্রথম রাত তার বন্ধু অজয় গোয়ালার সঙ্গে কাটাতে হবে। বিষয়টি রসিকতা মনে করে তখন গুরুত্ব দেননি তিনি।
‎পরদিন ১০ মার্চ ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী সাজন ও ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর বাড়ি করিমপুর চা-বাগানে বসবাস শুরু করেন।

‎অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের দুই দিন পর ১২ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাজন তার বন্ধু অজয়কে ঘরে ঢুকতে দেন এবং বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় অজয় জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। স্বামী সাজন এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎পরবর্তীতে জুলাই মাসে সাজন সিলেটে চাকরি নেওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানেও অজয় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

‎একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর স্বামী ও তার বন্ধু তাকে না জানিয়ে পিতৃগৃহ মোমিনছড়া চা-বাগানে রেখে আসেন এবং তাকে ডিভোর্স দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

‎পরে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান। স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

‎অভিযোগ পাওয়ার পর রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে এসআই আলমগীর কবিরসহ পুলিশের একটি দল করিমপুর চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সাজন মুন্ডা ও অজয় গোয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎রাজনগর থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

‎রাজনগরে গৃহবধূকে ধর্ষণের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, ওসি এনামুল হকের নেতৃত্বে স্বামী ও তার বন্ধু গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৯:৪৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎মৌলভীবাজারের রাজনগরে বিয়ের পর এক গৃহবধূকে স্বামীর বন্ধুর মাধ্যমে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পর স্বামী ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে রাজনগর থানা পুলিশ।

‎গ্রেপ্তার দুজন হলেন—রাজনগর উপজেলার ৩ নম্বর মুন্সিবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা-বাগানের মৃত মতিহাস মুন্ডার ছেলে সাজন মুন্ডা (২৭) ও লাচানা গোয়ালার ছেলে অজয় গোয়ালা (২২)।

‎পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মোমিনছড়া চা-বাগানের ২১ বছর বয়সী ওই তরুণীর সঙ্গে প্রায় এক বছর আগে সাজন মুন্ডার পারিবারিকভাবে বিয়ের আলোচনা শুরু হয়। এ সময় মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।

‎ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত ৯ মার্চ সাজন ফোন করে তাকে জানান, বিয়ের পর প্রথম রাত তার বন্ধু অজয় গোয়ালার সঙ্গে কাটাতে হবে। বিষয়টি রসিকতা মনে করে তখন গুরুত্ব দেননি তিনি।
‎পরদিন ১০ মার্চ ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতি অনুযায়ী সাজন ও ওই তরুণীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি স্বামীর বাড়ি করিমপুর চা-বাগানে বসবাস শুরু করেন।

‎অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের দুই দিন পর ১২ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে সাজন তার বন্ধু অজয়কে ঘরে ঢুকতে দেন এবং বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। এ সময় অজয় জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। স্বামী সাজন এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন এবং বিষয়টি প্রকাশ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

‎পরবর্তীতে জুলাই মাসে সাজন সিলেটে চাকরি নেওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সেখানেও অজয় তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

‎একপর্যায়ে ওই গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর স্বামী ও তার বন্ধু তাকে না জানিয়ে পিতৃগৃহ মোমিনছড়া চা-বাগানে রেখে আসেন এবং তাকে ডিভোর্স দেওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

‎পরে তিনি বিষয়টি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জানান। স্থানীয়ভাবে আপস-মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হলে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।

‎অভিযোগ পাওয়ার পর রাজনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে এসআই আলমগীর কবিরসহ পুলিশের একটি দল করিমপুর চা-বাগান এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে সাজন মুন্ডা ও অজয় গোয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎রাজনগর থানার ওসি এনামুল হক চৌধুরী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।