কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পরিত্যক্ত জমিতে বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন কৃষক নাহারুল। যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় ভেড়ামারা কৃষি অফিস কৃষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেসব আলো-ছায়ায় ঘেরা পরিত্যক্ত জমিতে বস্তায় আদা চাষে উদ্বুদ্ধ করেছে। ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা ব্লকের স্বরূপের ঘোপ ঈদগাহ পাড়ার জান মোহাম্মদ এর ছেলে কৃষক মোঃ নাহারুল ইসলাম (৪২) এ বছরই প্রথমবারের মতো বারি আদা-২ জাতের বাড়ির আঙিনার পরিত্যক্ত জায়গায় আলো-ছায়ায় ঘেরাতে ৩০০ বস্তায় আদা চাষ শুরু করেছেন। সিমেন্টের পরিত্যক্ত ৩০০টি বস্তায় আদা চাষ করে লাখ টাকা আয়ের আশা নাহারুলের।
কৃষক নাহারুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় আগে আদা চাষের প্রচলন ছিল না। ভেড়ামারা কৃষি অফিসের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর প্রদর্শনীর মাধ্যমে ৩০০ বস্তায় আদা চাষ করেছি। আমার বাড়ির আঙ্গিনার যে-সব জমিতে আগে কোনো ফসল হতো না, সেসব জমিতেই আদা চাষ করেছি। বস্তা প্রতি আমার খরচ হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। আশা করছি প্রতি বস্তায় ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত ফলন পাব।
ভেড়ামারার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার সদরুল ইসলাম জানান, আদা চাষ সম্প্রসারণে আমরা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। কৃষকরাও বেশ আগ্রহী। বস্তায় আদা চাষ করলে একটি বস্তায় ৫০ গ্রামের একটি আদা রোপণ করে ৮০০ গ্রাম থেকে এক কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এতে যেমন কৃষকের পারিবারিক চাহিদা পূরণ হয়, তেমনি বাড়তি আয়ও হয়।
ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, প্রদর্শনী প্লটের জন্য কৃষকদের উপজেলা কৃষি অফিস থেকে বিনামূল্যে বস্তা, বীজ, সার এবং কীটনাশক সরবরাহ করা হয়েছে। এছাড়া, যারা নিজ উদ্যোগে চাষ করছেন, তাদের সার্বিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা।
এস.এম.আবু ওবাইদা-আল-মাহাদী, ব্যুরো চীফ, দক্ষিণাঞ্চল 



















