কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পন্ডিতপাড়া গ্রামে জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় রাহেনা বেগমের পরিবারের পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতরা কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পন্ডিতপাড়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রাহেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে তাঁর ক্রয়কৃত জমিতে বসবাস করে আসছেন। রাহেনা বেগমের দাবি, ৫ হাজার ৩ শত ২৮ নম্বর দলিলমূলে তিনি সাড়ে ৩৮ শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে বসতবাড়ি নির্মাণ ও হালচাষাবাদ করে আসছেন।
রাহেনা বেগম অভিযোগ করে বলেন, পাশ্ববর্তী প্রতিবেশী আব্দুর রশিদ গং তাঁর জমি জোরপূর্বক জবরদখল করে রাস্তা নির্মাণের পায়তারা করেন। এ সময় তিনি ও তাঁর পরিবারের লোকজন বাধা দিলে আব্দুর রশিদ গং তাদের মারপিট করে রক্তাক্ত করেন। পরে আহতরা কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এদিকে, বিবাদমান জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদে আব্দুর রশিদ গং কীটনাশক প্রয়োগ করে ধান নষ্ট করে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন রাহেনা বেগম।
এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলা জজ কোর্টে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার নম্বর ৬২/২৬।
স্থানীয় বাসিন্দা আলাউদ্দিন বলেন, “দীর্ঘদিন যাবৎ রাহেনা তাঁর জমি দলিলসূত্রে ভোগদখল করে আসতেছেন।”
স্থানীয় বাসিন্দা নবীজন অভিযোগ করে বলেন, “রাহেনারা অসহায় বিধায় দিনদুপুরে তাঁদেরকে মারপিট, শ্লীলতাহানিসহ স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়।”
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সলিমা বলেন, “আব্দুর রশিদ গংরা জমিজমার জের ধরে রাহেনার ধানে কীটনাশক ছিটিয়ে পুড়িয়ে দেন।”
ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। উক্ত ঘটনায় ভিতরবন্দ ইউনিয়নের সচেতন মহল ও এলাকাবাসী নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
তবে আব্দুর রশিদ গং অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা জমি রেওয়াজ করে রাস্তা নির্মাণ করেছি। কিন্তু এখন রাস্তা নির্মাণের জমি দিচ্ছে না।”
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী থানার অফিসার ইনচার্জ এনামুল হক জানান, “অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
জমির মালিকানা, রাস্তা নির্মাণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিরোধ ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: 



















