দিনের পর দিন ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা, স্বাক্ষরে গড়িমসির অভিযোগ; লাইটের অভাবে রাতের বেলায় অন্ধকারে অধিকাংশ সড়ক
কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর পৌরসভায় নাগরিক সেবা নিতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। প্রয়োজনীয় সনদ, নাগরিকত্ব সংক্রান্ত কাগজপত্র, হোল্ডিং-সংক্রান্ত সেবা, জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা পেতে দিনের পর দিন পৌরসভায় ঘুরেও কাঙ্ক্ষিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, পৌর প্রশাসক মাঝে মাঝে অফিসে উপস্থিত হলেও নাগরিক সেবার প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করতে গড়িমসি করেন। ফলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও অনেক নাগরিক সময়মতো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাচ্ছেন না। এতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আটকে গিয়ে ভোগান্তি বাড়ছে।
এদিকে লাইটের অভাবে বাজিতপুর পৌরসভার অধিকাংশ রাস্তা রাতের বেলায় অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও আবাসিক এলাকার অনেক ল্যাম্পপোস্টে বাতি না থাকায় সন্ধ্যার পর পথচারী ও যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। অন্ধকারের কারণে দুর্ঘটনা, ছিনতাইসহ বিভিন্ন ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তার লাইটের সমস্যা দীর্ঘদিনের হলেও তা সমাধানে পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। কোথাও ল্যাম্পপোস্ট থাকলেও বাতি নষ্ট হয়ে পড়ে আছে, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে নতুন বাতি স্থাপন করা হয়নি।
একজন ভুক্তভোগী বলেন, “নাগরিক সেবার একটি কাগজের জন্য কয়েকদিন ধরে পৌরসভায় আসতে হচ্ছে। আবার রাতে রাস্তায় বের হলে অধিকাংশ জায়গায় বাতি না থাকায় অন্ধকারের মধ্যে চলাচল করতে হয়। আমরা নিয়মিত পৌরকর ও বিভিন্ন ফি পরিশোধ করি, অথচ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছি না।”
নাগরিকদের দাবি, পৌরসভায় নাগরিক সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, প্রশাসকের নিয়মিত অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে দ্রুত স্বাক্ষরের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত নষ্ট লাইটগুলো মেরামত, অচল ল্যাম্পপোস্টে নতুন বাতি স্থাপন এবং অন্ধকার সড়কগুলোতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাজিতপুর পৌরবাসীর প্রশ্ন—পৌরকর ও বিভিন্ন সেবা ফি নিয়মিত আদায় করা হলেও নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে এত গড়িমসি কেন?
সাধারণ নাগরিকদের প্রত্যাশা, পৌর কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
রুবেল আহমেদ স্টাপ রিপোর্টার :কিশোরগঞ্জ জেলা 



















