বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) পরিচালিত বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর ইংরেজি বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রকাশ্যে নকলের অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত সংবাদ গত ২৮ ও ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় সর্বদা নকলমুক্ত, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও কক্ষ পরিদর্শকদের দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে অনভিপ্রেত এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কয়েকটি কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ হলো:
কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্র বাতিল করা হয়েছে।
বাতিলকৃত কেন্দ্রের পরিবর্তে গাংনী মহিলা ডিগ্রি কলেজ, মেহেরপুর-কে নতুন পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ০৭ (সাত) জন শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গত ২৮ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কাজিপুর ডিগ্রি কলেজ পরীক্ষাকেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সহকারী অধ্যাপক জনাব মোঃ হাবিবুর রহমান এবং জনাব মোঃ রফিক-উজ-জামান দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং নকল প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হওয়ায় তাঁদের বিএ এবং বিএসএস পরীক্ষা-২০২৫-এর সকল কার্যক্রম থেকে আজীবনের জন্য অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনাটি তদন্তের জন্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান-কে আহ্বায়ক করে ০৩ (তিন) সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় নকল বা পরীক্ষায় কোনো ধরনের অসদুপায়ের বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে। একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য পরীক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। এ ঘটনায় তদন্তসাপেক্ষে দায়ী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে বিধি ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপাচার্য পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী, কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও কক্ষ পরিদর্শকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
বাউবির উপাচার্য কর্তব্যরত সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও প্রহারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তিনি এ ঘটনায় আহত সাংবাদিকদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
মোঃ মামুনুর রশীদ (জেলা প্রতিনিধি) 



















