ঢাকা ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ১ বছরের সন্তানকে ১ লাখ টাকায় ‘বিক্রি’ করে আইফোন কেনার অভিযোগ

 

 

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক বছরের নিজ সন্তানকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সন্তানকে হাতবদলের পর সেই টাকার একটি অংশ দিয়ে একটি আইফোন কেনারও অভিযোগ করেছেন শিশুটির স্বজনরা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
​ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে।
​পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়:
মাছুয়াখালী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে তাদের ১ বছরের শিশুসন্তান মুসা এতদিন তার দাদি মাহফুজা বেগমের কাছেই লালন-পালন হচ্ছিল। সম্প্রতি মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে কৌশলে শিশু মুসাকে তার দাদির কাছ থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে শিশুটিকে নিয়ে তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, উপজেলার গয়নাঘাট গ্রামের ইমরান নামের এক ব্যক্তির কাছে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে দিয়ে দিয়েছেন মারুফ।
​স্বজনদের আরও অভিযোগ, সন্তান বিক্রির টাকায় পাওয়া অর্থ দিয়ে একটি আইফোন কিনেছেন ওই বাবা।
​দায়িত্ব গ্রহণকারীর বক্তব্য:
শিশুটিকে নিজের কাছে রাখার কথা স্বীকার করে ইমরান জানান, “মারুফ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ১ লাখ টাকা ধার নিয়েছিল। তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় সে সন্তান লালন-পালন করতে পারবে না জানিয়ে শিশুটিকে আমার কাছে লালন-পালনের জন্য দিয়েছে।”
​কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বজনদের আকুতি:
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, “আমার ছেলের স্ত্রীর সাথে ঝামেলা থাকায় নাতি মুসাকে আমিই বুকে আগলে বড় করছিলাম। দুই দিন আগে আমার ছেলে এসে নাতিকে নিয়ে আর ফেরেনি। পরে জানতে পারি সে আমার নাতিকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এবং সেই টাকায় মোবাইল কিনেছে। আমি আমার কলিজার টুকরো নাতিকে ফেরত চাই এবং আমার এই ছেলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
​শিশুটির দাদা মফিজ মুন্সিও ক্ষোভ প্রকাশ করে একই দাবি জানিয়ে নাতিকে দ্রুত কোলে ফিরিয়ে পাওয়ার আকুতি জানান।
​প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অমানবিক এই ঘটনার খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
​এ বিষয়ে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, “শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।”
​অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, “শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ১ বছরের সন্তানকে ১ লাখ টাকায় ‘বিক্রি’ করে আইফোন কেনার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৩৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

 

 

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক বছরের নিজ সন্তানকে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্যের কাছে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, সন্তানকে হাতবদলের পর সেই টাকার একটি অংশ দিয়ে একটি আইফোন কেনারও অভিযোগ করেছেন শিশুটির স্বজনরা। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
​ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাছুয়াখালী গ্রামে।
​পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়:
মাছুয়াখালী গ্রামের মফিজ মুন্সির ছেলে মারুফের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জেরে তাদের ১ বছরের শিশুসন্তান মুসা এতদিন তার দাদি মাহফুজা বেগমের কাছেই লালন-পালন হচ্ছিল। সম্প্রতি মারুফ ঢাকা থেকে বাড়িতে এসে কৌশলে শিশু মুসাকে তার দাদির কাছ থেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে শিশুটিকে নিয়ে তিনি আর বাড়িতে ফিরে না আসায় স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা জানতে পারেন, উপজেলার গয়নাঘাট গ্রামের ইমরান নামের এক ব্যক্তির কাছে ১ লাখ টাকার বিনিময়ে শিশুটিকে দিয়ে দিয়েছেন মারুফ।
​স্বজনদের আরও অভিযোগ, সন্তান বিক্রির টাকায় পাওয়া অর্থ দিয়ে একটি আইফোন কিনেছেন ওই বাবা।
​দায়িত্ব গ্রহণকারীর বক্তব্য:
শিশুটিকে নিজের কাছে রাখার কথা স্বীকার করে ইমরান জানান, “মারুফ আমার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ১ লাখ টাকা ধার নিয়েছিল। তার স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হওয়ায় সে সন্তান লালন-পালন করতে পারবে না জানিয়ে শিশুটিকে আমার কাছে লালন-পালনের জন্য দিয়েছে।”
​কান্নাজড়িত কণ্ঠে স্বজনদের আকুতি:
শিশুটির দাদি মাহফুজা বেগম বলেন, “আমার ছেলের স্ত্রীর সাথে ঝামেলা থাকায় নাতি মুসাকে আমিই বুকে আগলে বড় করছিলাম। দুই দিন আগে আমার ছেলে এসে নাতিকে নিয়ে আর ফেরেনি। পরে জানতে পারি সে আমার নাতিকে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে এবং সেই টাকায় মোবাইল কিনেছে। আমি আমার কলিজার টুকরো নাতিকে ফেরত চাই এবং আমার এই ছেলের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
​শিশুটির দাদা মফিজ মুন্সিও ক্ষোভ প্রকাশ করে একই দাবি জানিয়ে নাতিকে দ্রুত কোলে ফিরিয়ে পাওয়ার আকুতি জানান।
​প্রশাসনের পদক্ষেপ:
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অমানবিক এই ঘটনার খবর পেয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
​এ বিষয়ে দশমিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, “শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে তার স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।”
​অন্যদিকে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, “শিশু মুসাকে উদ্ধার করে তার দাদা-দাদির কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে।”