কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর পুরান পাড়ার ২ নম্বর ওয়ার্ডে জায়গা বুঝিয়ে না দিয়ে চতুরতার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মোঃ সাদ্দাম হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। উল্টো নিজের প্রতারণা ও অপরাধ ঢাকতে ভুক্তভোগী দুবাই প্রবাসীর বিরুদ্ধে অপহরণের অসত্য ও বানোয়াট অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শামলাপুর পুরান পাড়ার ২ নম্বর ওয়ার্ডের অধিবাসী ও দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ তাঁর প্রতিবেশীর মাধ্যমে ১ কড়া জায়গা (প্রতি কড়া ৬০,০০০ টাকা দর) ক্রয়ের জন্য মোঃ সাদ্দাম হোসেনকে স্ট্যাম্প ও ভিডিও দলিলসহ সর্বমোট ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা পরিশোধ করেন। পরবর্তীতে সাদ্দাম মোবাইলে যোগাযোগ করে দুবাই প্রবাসী আব্দুল্লাহর মায়ের কাছ থেকে আরও ২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।
টাকা পাওয়ার পর প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ জায়গাটি নিজ নামে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দুবাই থেকে দেশে ফেরেন। কিন্তু দেশে আসার পর সাদ্দাম জায়গা রেজিস্ট্রি না দিয়ে নানা টালবাহানা ও ফোন রিসিভ না করে এলাকা ছেড়ে সটকে পড়ার চেষ্টা করেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে আব্দুল্লাহর পরিবার স্থানীয়দের সহায়তায় সাদ্দামকে একটি দোকান থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্থানীয় ইউপি সদস্যের (মেম্বার) বাড়িতে নিয়ে যান, যাতে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান করা সম্ভব হয়।
দৈনিক খবর কক্সবাজার-এর অনুসন্ধানকারী সংগ্রাহক মিসবাহ উল্লাহর কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কলিম উল্লাহ জানান, “দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সাথে মোঃ সাদ্দাম হোসেন যা করেছেন তা অত্যন্ত অন্যায় ও অপরাধমূলক। আব্দুল্লাহকে জায়গা দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার পর সাদ্দাম সে জায়গাটি নিজের আপন ভাই মোহাম্মদ ইসমাইলের কাছে গোপনে বিক্রি করে দেন।”
ভুক্তভোগী দুবাই প্রবাসী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার পরিবারের শেষ সম্বল এবং স্ত্রীদের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার বিক্রি করে জমানো টাকায় এই জায়গাটি ক্রয়ের চেষ্টা করেছিলাম। সাদ্দাম আমার সাথে প্রতারণা করে সব টাকা নিয়ে এখন আমার সাথে ঘোর অন্যায় করছে।”
এদিকে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, সাদ্দাম হোসেনকে প্রবাসী আব্দুল্লাহ অপহরণ করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য নিশ্চিত করেছেন যে, অপহরণের খবরটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। সাদ্দামকে কোনো অপহরণ করা হয়নি; বরং পাওনা টাকার সুষ্ঠু হিসাব ও সুবিচারের জন্যই তাকে মেম্বারের বাড়িতে আনা হয়েছিল।
প্রতারক চক্রের এহেন মিথ্যা গুজবে কান না দিয়ে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দুবাই প্রবাসী পরিবারের সাথে হওয়া অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
টেকনাফে প্রতিনিধি মিসবাহ উল্লাহ প্রতিবেদনে বিস্তারিত দেখুন 



















