চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার ৩ নং স্বনির্ভর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হুসাইন আহমেদ জাবেদের বক্তব্য
“একজন জুলাইযোদ্ধার আর্তনাদ কে শুনবে, কে দেখবে?”—আক্ষেপের সঙ্গে এমন প্রশ্ন তুলেছেন চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ৩ নং স্বনির্ভর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক হুসাইন আহমেদ জাবেদ।
দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের স্মৃতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বছরের পর বছর রাজনৈতিক আন্দোলনে রাজপথে থেকে নিজের অস্তিত্ব ও আর্থিক স্বচ্ছলতা বিসর্জন দিয়েছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে জেল-জুলুম, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি। অথচ আজ সেই ত্যাগের বিনিময়ে জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হুসাইন আহমেদ জাবেদের ভাষায়, “রাজনীতি করতে গিয়ে কেউ রাস্তার ফকির হয়, আবার কেউ কোটিপতি হয়ে যায়—এই বৈষম্যের হিসাব একদিন না একদিন দিতেই হবে।”
তিনি প্রশ্ন রাখেন, “আমরা কি অপরাধ করেছিলাম?”
কাদের চৌধুরী পরিবারের প্রতি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আনুগত্য ও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে হুসাইন আহমেদ বলেন, রাঙ্গুনিয়ায় যখন প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল, তখন হাতে গোনা কয়েকশ মানুষ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করে চৌধুরী পরিবারের রাজনীতিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছেন। সেই সময়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের অনেকেই আজ কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি।
তিনি বিশেষভাবে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর এমপি মহোদয় প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেন—
“মাননীয় এমপি হাম্মাম কাদের চৌধুরী সাহেব, আজ আপনার পাশে লাখো মানুষ, লাখো জনতা। কিন্তু আপনার সেই পুরোনো, ত্যাগী মানুষগুলোর কথা কি একবারও মনে পড়ে না? যে মানুষগুলো আপনার পরিবারকে ভালোবেসে রাজপথে থেকেছে, নির্যাতন সহ্য করেছে, জেল খেটেছে—তাদের দিকে কি একবার ফিরে তাকানোর সময় এসেছে না?”
হুসাইন আহমেদ আরও বলেন, নিজের বাবা-মায়ের চিকিৎসার খরচ জোগাড় করা এবং পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়াই এখন অনেক জুলাইযোদ্ধার জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অর্থের অভাবে ভালো ব্যবসা কিংবা চাকরির সুযোগ হারিয়ে অনেকেই আজ অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন বলে তিনি দাবি করেন।
তার প্রশ্ন—“যারা দুঃসময়ে পাশে ছিল, সুসময়ে তাদের জন্য কি কোনো জায়গা নেই?”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের যদি ধীরে ধীরে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয় কিংবা তাদের অবদান ভুলে যাওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতের বিএনপির রাজনীতিতে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
হুসাইন আহমেদ জাবেদ বলেন, “শুধু আমি নই—আমার মতো অসংখ্য জুলাইযোদ্ধা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছেন। তাদের খুঁজে বের করতে হবে। তাদের ত্যাগের মূল্যায়ন করতে হবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী ভালো অবস্থানে স্থান দেওয়ার উদ্যোগ নিতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে যে ভালোবাসা, মায়া, মমতা ও পারস্পরিক বন্ধন ছিল, সেই সম্পর্ক যেন ক্ষমতা ও অর্থের হিসাবের কাছে হারিয়ে না যায়।
একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনীতির সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, অতীতে আওয়ামী লীগের কিছু প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে কেউ কেউ ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন। তাদের উদ্দেশে হুসাইন আহমেদের প্রশ্ন—
“আজ যারা টাকার পাহাড় গড়েছেন, সেই সুযোগ আপনারা কীভাবে পেলেন? কার ইশারা, কার সহযোগিতা কিংবা কার রাজনৈতিক ছায়ায় এতদূর এগিয়ে গেলেন—তৃণমূলের ত্যাগী নেতা-কর্মীরাও একদিন সেই প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইবে।”
হুসাইন আহমেদ জাবেদের বক্তব্যের মূল আবেদন একটাই—দুঃসময়ের ত্যাগী নেতা-কর্মীদের যেন সুসময়ে ভুলে যাওয়া না হয়।
তার প্রত্যাশা, দলীয় নেতৃত্ব অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে ত্যাগ স্বীকার করা নেতা-কর্মীদের খুঁজে বের করবে, তাদের পাশে দাঁড়াবে এবং যোগ্যতা ও ত্যাগের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে মূল্যায়ন করবে।
কারণ তার ভাষায়—
“রাজনীতির সুসময়ে নতুন মুখের ভিড় হয়; কিন্তু দুঃসময়ে যারা বুক পেতে রাজপথে দাঁড়িয়েছিল, ইতিহাস তাদের ভুলে গেলে রাজনীতিই একদিন তার মূল্য চুকাবে।”
রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি ওমর ফারুক 



















