ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রচেষ্টায় ১৭ ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে মিজানের লাশ হস্তান্তর দলীয় নেতাকর্মী ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ

 

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘ ৯ মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করা মো. মিজানুর রহমানের (৩৫) লাশ মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরীর উদ্যোগ ও দলীয় নেতাকর্মী, বন্ধুদের সহযোগিতায় হাসপাতালের বকেয়া বিলের বিষয়ে সমাধান হওয়ায় লাশ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টায় চট্টগ্রামের বিশেষায়িত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মিজান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

মৃত্যুর পর হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ বড় অঙ্কের বিল বকেয়া থাকায় আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ বিষয়ে ‘সাড়ে ৩০ লাখ টাকা বিলে ১১ লাখ পরিশোধ, বাকি বিলের জন্য আটকে আছে যুবদল নেতার লাশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হয়।

এরপর তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করেন এবং নিজের ও তাঁর সহধর্মিণী সামানজার খানের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বকেয়া বিলের বিষয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে কম খরচে নামমাত্র বিল পরিশোধের মাধ্যমে মিজানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে লাশ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন সাংসদের ব্যক্তিগত সচিব মহিবুল কবির তমাল।

নিহতের ভাই মো. এনাম জানান, মিজান ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ করে চতুর্থ সাইকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা বাবদ মোট বিল আসে ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪৭ টাকা। এর মধ্যে পরিবার ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিল। বাকি ছিল ১৯ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪৭ টাকা।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ভোরে মিজানের মৃত্যু হলে বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে মিজানের বন্ধু ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার করে সহযোগিতার আহ্বান জানান। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, একপর্যায়ে দিনব্যাপী প্রচেষ্টায় প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।

মিজানের অকাল মৃত্যুতে সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী গভীর শোক ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সহযোগিতার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরাও মিজানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিজানের নামাজে জানাজা বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় মোগলেরহাট তৈয়বিয়া তাহেরিয়া মির্জা হোসাইনিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান স্ত্রী ও তিন বছরের এক ছেলে রেখে গেছেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং হোছনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রচেষ্টায় ১৭ ঘণ্টা পর পরিবারের কাছে মিজানের লাশ হস্তান্তর দলীয় নেতাকর্মী ও বন্ধুদের সহযোগিতায় অর্থ সংগ্রহ

আপডেট সময় : ০৬:৩১:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬

 

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় দীর্ঘ ৯ মাস ব্লাড ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে মৃত্যুবরণ করা মো. মিজানুর রহমানের (৩৫) লাশ মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রাঙ্গুনিয়ার সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরীর উদ্যোগ ও দলীয় নেতাকর্মী, বন্ধুদের সহযোগিতায় হাসপাতালের বকেয়া বিলের বিষয়ে সমাধান হওয়ায় লাশ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ভোর ৫টায় চট্টগ্রামের বিশেষায়িত এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান মিজানুর রহমান। দীর্ঘদিন ধরে ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মিজান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

মৃত্যুর পর হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যয় বাবদ বড় অঙ্কের বিল বকেয়া থাকায় আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ বিষয়ে ‘সাড়ে ৩০ লাখ টাকা বিলে ১১ লাখ পরিশোধ, বাকি বিলের জন্য আটকে আছে যুবদল নেতার লাশ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিষয়টি সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরীর দৃষ্টিগোচর হয়।

এরপর তিনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিজ উদ্যোগে যোগাযোগ করেন এবং নিজের ও তাঁর সহধর্মিণী সামানজার খানের ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় বকেয়া বিলের বিষয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে কম খরচে নামমাত্র বিল পরিশোধের মাধ্যমে মিজানের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। দাপ্তরিক কার্যক্রম শেষে লাশ হস্তান্তরের সময় উপস্থিত ছিলেন সাংসদের ব্যক্তিগত সচিব মহিবুল কবির তমাল।

নিহতের ভাই মো. এনাম জানান, মিজান ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় কেমোথেরাপির তৃতীয় সাইকেল শেষ করে চতুর্থ সাইকেলে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসা বাবদ মোট বিল আসে ৩০ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪৭ টাকা। এর মধ্যে পরিবার ১১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছিল। বাকি ছিল ১৯ লাখ ৫৯ হাজার ৬৪৭ টাকা।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার ভোরে মিজানের মৃত্যু হলে বকেয়া বিল পরিশোধ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ফলে লাশ হাসপাতাল থেকে নিয়ে দাফন-কাফনের ব্যবস্থা করা পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।

এদিকে মিজানের বন্ধু ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রচার করে সহযোগিতার আহ্বান জানান। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের দাবি, একপর্যায়ে দিনব্যাপী প্রচেষ্টায় প্রায় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়।

মিজানের অকাল মৃত্যুতে সাংসদ হুমাম কাদের চৌধুরী গভীর শোক ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সহযোগিতার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দরাও মিজানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিজানের নামাজে জানাজা বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় মোগলেরহাট তৈয়বিয়া তাহেরিয়া মির্জা হোসাইনিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।

উল্লেখ্য, মিজানুর রহমান স্ত্রী ও তিন বছরের এক ছেলে রেখে গেছেন। তিনি রাঙ্গুনিয়া কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং হোছনাবাদ ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।