মাত্র তিন বছর বয়স। পৃথিবীটাকে এখনো ঠিকমতো চেনার আগেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি ছোট্ট আয়েশা। মা-বাবার বিবাহবিচ্ছেদের পর মায়ের কাছেই ছিল তার বেড়ে ওঠা। কিন্তু তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে মেয়েটির প্রয়োজনীয় লালন-পালন, চিকিৎসা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা মায়ের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। এখন আয়েশার জন্য প্রয়োজন এমন একটি নিরাপদ পরিবার, যেখানে সে পাবে ভালোবাসা, যত্ন ও নিশ্চিন্তে বেড়ে ওঠার সুযোগ।
জানা গেছে, শিশুটির বাবার নাম জুনায়েদ এবং মায়ের নাম চাঁদনী। তাদের বাড়ি কুন্ডা এলাকায়। বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদের পর আয়েশার দায়িত্ব মায়ের ওপর থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে বর্তমানে মেয়েটিকে যথাযথভাবে লালন-পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
একটি শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা
শিশুর জীবনের এই বয়সটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে তার প্রয়োজন নিরাপদ পরিবেশ, পুষ্টিকর খাবার, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন পরিবারের ভালোবাসা ও মানসিক নিরাপত্তা।
কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে এসব মৌলিক প্রয়োজন নিশ্চিত করতে না পারার আশঙ্কা থেকেই আয়েশার জন্য একটি দায়িত্বশীল ও স্নেহশীল পরিবারের সন্ধান করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা চান, এমন কোনো পরিবার আয়েশার দায়িত্ব নিক যারা শিশুটিকে বোঝা হিসেবে নয়, বরং পরিবারের একজন সদস্য হিসেবে গ্রহণ করবে এবং তার ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করবে।
‘একটি ঘর নয়, আয়েশার দরকার একটি পরিবার’
আয়েশার জন্য শুধু থাকার জায়গা নয়—প্রয়োজন এমন একটি পরিবার, যেখানে সে নিজেকে নিরাপদ মনে করবে। যেখানে অসুস্থ হলে পাশে থাকবে কেউ, ভয় পেলে জড়িয়ে ধরবে কেউ, স্কুলে যাওয়ার সময় হাত ধরে এগিয়ে দেবে কেউ।
মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে অনেকেই শিশুটির পাশে দাঁড়াতে আগ্রহ দেখাতে পারেন। তবে আবেগের পাশাপাশি শিশুটির নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ বিবেচনায় আইনসম্মত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পালক নেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি।
আগ্রহী পরিবারকে শিশুটিকে সরাসরি ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টি সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আগ্রহী পরিবারের প্রতি আহ্বান
আয়েশাকে পালক হিসেবে গ্রহণ করতে আগ্রহী পরিবারকে অবশ্যই শিশুটির নিরাপত্তা, শিক্ষা, চিকিৎসা, মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে। সম্ভাব্য পরিবারের পরিচয় ও পারিবারিক পরিবেশ যথাযথভাবে যাচাই করেই শিশুটির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি শিশুর জীবন নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে আবেগের চেয়ে তার সর্বোত্তম স্বার্থ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
আয়েশার অপেক্ষা—একটি নিরাপদ ঠিকানার
তিন বছরের ছোট্ট আয়েশা হয়তো জানে না, তার জীবনের সামনে কী অপেক্ষা করছে। সে হয়তো শুধু চায় একটু আদর, একটু নিরাপত্তা আর এমন একটি ঘর যেখানে নিশ্চিন্তে ঘুমানো যায়।
মায়ের আর্থিক অসহায়ত্ব যেন আয়েশার ভবিষ্যৎ কেড়ে না নেয়—এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। সমাজের কোনো দায়িত্বশীল ও সক্ষম পরিবার যদি আইনসম্মতভাবে তার দায়িত্ব নেয়, তবে ছোট্ট শিশুটির জীবন নতুন করে সাজানোর একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে।
আয়েশার জন্য তাই প্রয়োজন সহানুভূতি নয়, প্রয়োজন দায়িত্বশীল ভালোবাসা।
যোগাযোগ: 01736066042
বিশেষ দ্রষ্টব্য: শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থ ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তার পূর্ণ ঠিকানা, ব্যক্তিগত নথি, অতিরিক্ত পরিচয়-তথ্য বা ছবি প্রকাশ না করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পালক নেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক।
পল্লব চক্রবর্তী ,স্টাফ রিপোর্টার : 



















