ঢাকা ০৭:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শুধুমাত্র আজই ১০টায় অফিসে আসছি সি.এইস.সি.পি হাসিনা

 

 

“উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, সিংগাইর” পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিক এ অনিয়মিত অফিস, সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগীদের সাথে দূুর্ব্যাবহার ও অপরিচ্ছন্ন-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলা বায়রা ইউনিয়নের চরজামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিক এ দ্বায়িত্বরত সি.এইস.সি.পি হাসিনা’র বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সি.এইস.সি.পি হাসিনা স্থানীয় জামালপুর গ্রামেরই বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অফিস করছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং সরবরাহ কৃত ঔষধ না দিয়েই ঔষধ নাই বলে বিদায় করে দেন।

কমিউনিটি ক্লিনিক এর পরিচ্ছন্ন কর্মী/ আয়া রুশিয়া জানান, এই ক্লিনিকে দ্বায়িত্বরত সি.এইস.সি.পি হাসিনা আপা নিয়মিতই অফিস করেন। তবে মাঝে মধ্যে দেরি করে আসেন। তাছাড়া আমি সকালেই অফিসের তালা খুলি।

চরজামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিক এর জমিদাতা মৃত মোকসেদ আলী’র ভাতিজা মনোয়ার হোসেন জানান, সি.এইস.সি.পি হাসিনা এ পর্যন্ত কোন দিনই ১০ টার আগে অফিস করেন না। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগীরা চিকিৎসার জন্য আসলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং ঔষধ না দিয়ে ঔষধ নাই ঔষধ নাই বলে বিদায় করে দেন। তাছাড়া তিনি নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।

বায়রা জয়নাল মার্কেট এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগী বিলকিস জানান, আমি ডাক্তারকে কোনদিনই ১০ টায় এসে পাইনি। চিকিৎসার ঔষধ চাইলে ঔষধ নাই বলে ঔষধ না দিয়েই তারিয়ে দেয় এবং তার আচরণও খারাপ।

স্থানীয় অটোচালক রুবেল দেওয়ান জানান, উনি কোনদিনই সঠিক সময়ে অফিস করেন না এবং ঔষধ নিতে গেলে টাকা চায়, এছাড়া উনার আচরণও খারাপ। ক্লিনিকের চারপাশের অবস্থা অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন।

মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, হাসিনা আপা নিয়মিত অফিসে আসেন না, উনি প্রতিদিনই দেরিতে আসেন। কোন কোনদিন ১০ টার পরেও আসেন আবার কোনদিন সারাদিনেও আসেন না। আমি আমার স্ত্রী সহ ডায়বেটিস এর সেবা নিতে ক্লিনিকে আসলে প্রায়ই হয়রানির শিকার হয়েছি। আবার ঔষধ চাইলে ঔষধ নাই ঔষধ নাই বলে বিদায় করে দেন।

ভুক্তভোগী রুগীরা একমত পোষণ করে জানান, আমরা চাই, যে ডাক্তার নিয়মিত অফিস করবেন, রুগীদের সাথে ভালো আচরণ করবেন এবং ঔষধ নিয়মিত দিবেন এমন একজন দ্বায়িত্ব পাক। যাতে করে আমাদের মতো গরীব দুঃখী অসহায় দুস্থ মানুষের সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হবে।

সি.এইস.সি.পি হাসিনা সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে জানান, আমি তো নিয়মিত অফিসে আসি ভাই, আমার ভুল হয়ে গেছে। আজ কয়টায় আসলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজই শুধুমাত্র আজই ১০ টা বেজে গেছে তাছাড়া আমি তো নিয়মিতই অফিসে আসি। মাঝে মধ্যে মন মানসিকতা খারাপের কারণে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগীদের সাথে খারাপ আচরণ হয়ে যায়। ক্লিনিকের আসেপাশে অপরিচ্ছন্ন, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশ এ সেবা দানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, মাত্র দের মাস আগে পরিষ্কার করেছি এখন পরিচ্ছন্ন কর্মী না পাওয়ায় এরুপ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাফসান রেজা এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিকদের জানান, আমিতো আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম বিষয়টি আমি আগামীকাল ভিজিট করবো এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো নিশ্চিত থাকেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

শুধুমাত্র আজই ১০টায় অফিসে আসছি সি.এইস.সি.পি হাসিনা

আপডেট সময় : ০৭:১৫:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

 

 

“উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিস, সিংগাইর” পরিচালিত কমিউনিটি ক্লিনিক এ অনিয়মিত অফিস, সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগীদের সাথে দূুর্ব্যাবহার ও অপরিচ্ছন্ন-অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর উপজেলা বায়রা ইউনিয়নের চরজামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিক এ দ্বায়িত্বরত সি.এইস.সি.পি হাসিনা’র বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, সি.এইস.সি.পি হাসিনা স্থানীয় জামালপুর গ্রামেরই বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত অফিস করছেন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগীদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং সরবরাহ কৃত ঔষধ না দিয়েই ঔষধ নাই বলে বিদায় করে দেন।

কমিউনিটি ক্লিনিক এর পরিচ্ছন্ন কর্মী/ আয়া রুশিয়া জানান, এই ক্লিনিকে দ্বায়িত্বরত সি.এইস.সি.পি হাসিনা আপা নিয়মিতই অফিস করেন। তবে মাঝে মধ্যে দেরি করে আসেন। তাছাড়া আমি সকালেই অফিসের তালা খুলি।

চরজামালপুর কমিউনিটি ক্লিনিক এর জমিদাতা মৃত মোকসেদ আলী’র ভাতিজা মনোয়ার হোসেন জানান, সি.এইস.সি.পি হাসিনা এ পর্যন্ত কোন দিনই ১০ টার আগে অফিস করেন না। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগীরা চিকিৎসার জন্য আসলে তাদের সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং ঔষধ না দিয়ে ঔষধ নাই ঔষধ নাই বলে বিদায় করে দেন। তাছাড়া তিনি নোংরা পরিবেশে চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন।

বায়রা জয়নাল মার্কেট এলাকা থেকে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগী বিলকিস জানান, আমি ডাক্তারকে কোনদিনই ১০ টায় এসে পাইনি। চিকিৎসার ঔষধ চাইলে ঔষধ নাই বলে ঔষধ না দিয়েই তারিয়ে দেয় এবং তার আচরণও খারাপ।

স্থানীয় অটোচালক রুবেল দেওয়ান জানান, উনি কোনদিনই সঠিক সময়ে অফিস করেন না এবং ঔষধ নিতে গেলে টাকা চায়, এছাড়া উনার আচরণও খারাপ। ক্লিনিকের চারপাশের অবস্থা অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশ তৈরি করে রেখেছেন।

মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, হাসিনা আপা নিয়মিত অফিসে আসেন না, উনি প্রতিদিনই দেরিতে আসেন। কোন কোনদিন ১০ টার পরেও আসেন আবার কোনদিন সারাদিনেও আসেন না। আমি আমার স্ত্রী সহ ডায়বেটিস এর সেবা নিতে ক্লিনিকে আসলে প্রায়ই হয়রানির শিকার হয়েছি। আবার ঔষধ চাইলে ঔষধ নাই ঔষধ নাই বলে বিদায় করে দেন।

ভুক্তভোগী রুগীরা একমত পোষণ করে জানান, আমরা চাই, যে ডাক্তার নিয়মিত অফিস করবেন, রুগীদের সাথে ভালো আচরণ করবেন এবং ঔষধ নিয়মিত দিবেন এমন একজন দ্বায়িত্ব পাক। যাতে করে আমাদের মতো গরীব দুঃখী অসহায় দুস্থ মানুষের সঠিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত হবে।

সি.এইস.সি.পি হাসিনা সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে জানান, আমি তো নিয়মিত অফিসে আসি ভাই, আমার ভুল হয়ে গেছে। আজ কয়টায় আসলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আজই শুধুমাত্র আজই ১০ টা বেজে গেছে তাছাড়া আমি তো নিয়মিতই অফিসে আসি। মাঝে মধ্যে মন মানসিকতা খারাপের কারণে সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রুগীদের সাথে খারাপ আচরণ হয়ে যায়। ক্লিনিকের আসেপাশে অপরিচ্ছন্ন, অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশ এ সেবা দানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, মাত্র দের মাস আগে পরিষ্কার করেছি এখন পরিচ্ছন্ন কর্মী না পাওয়ায় এরুপ হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রাফসান রেজা এর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে সাংবাদিকদের জানান, আমিতো আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম বিষয়টি আমি আগামীকাল ভিজিট করবো এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো নিশ্চিত থাকেন।