স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন রোববার (২৩ আগস্ট) নওগাঁয় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তিনি নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শনের পাশাপাশি ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর ঘুরে দেখেন।
সকালে কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ সরবরাহ ও রোগীদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
হাসপাতালে পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলা হয়েছে জানতে পেরে মন্ত্রী তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেন। পরে তিনি নিজ অর্থায়নে স্যালাইন কিনে ওই রোগীর হাতে তুলে দেন।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো প্রাইভেট ক্লিনিক ও হাসপাতাল গড়ে উঠেছে। লাইসেন্স না থাকা প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও জরিমানার মাধ্যমে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালে ১০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে জেলা পর্যায়েই গুরুতর রোগীদের ডায়ালাইসিসের সুযোগ বাড়বে। আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়েও ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, হাসপাতালগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এর মধ্যে নারী ও শিশুদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি অত্যাধুনিক প্যাথলজি ল্যাব, আল্ট্রাসাউন্ডসহ আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের জনবল সংকট কাটাতে ৫ হাজার ডাক্তার, ২ হাজার ৫০০ নার্স ও ২ হাজার ৫০০ ফার্মাসিস্ট নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এরপর বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে যান তিনি। সেখানে হাসপাতালের টয়লেটের নাজুক ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। হাসপাতালের রান্নাঘর পরিদর্শন করে রোগীদের খাবারের মানও পরীক্ষা করেন এবং খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ জানান।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রীকে জানায়, ৪০টি অনুমোদিত চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১৩ জন। চিকিৎসক সংকটের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন তিনি। এ সময় উপজেলা পর্যায়ে ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বদলগাছীকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন মন্ত্রী।
পরে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে নওগাঁর ঐতিহাসিক পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার ও জাদুঘর পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো ঘুরে দেখেন এবং পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সম্পর্কে অবহিত হন।
পরিদর্শনকালে নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. আমিনুল ইসলাম, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামানসহ প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা থেকে জেলা ও মেডিকেল কলেজ পর্যায় পর্যন্ত চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় উন্নত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের লক্ষ্য
মোঃ আরিফুল ইসলাম, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি 



















