নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের মিরাপুর এলাকায় কৃষক সাইফুল ইসলামের ২২ বিঘার জমির প্রায় ১৩ হাজার কলাগাছ কেটে দেওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে স্থানীয় কৃষক, এলাকাবাসী বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনে বক্তারা অবিলম্বে জড়িতদের সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, গত ২০শে আগস্ট ২০২৬ বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী জমির মালিক সাইফুল ইসলাম তার জমিতে কলার গাছ কাটা অবস্থায় দেখতে পান। কলার গাছের বয়স ৯ মাস হয়েছে এবং থোকায় থোকায় কলার ক্যান ঝুলছিল। ১০ থেকে১৫ দিন পর কাটা ঐ গাছগুলি থেকে কলা সংগ্রহ করা হইত কিন্তু তা আর হলো না। কৃষকরা ফসল ও বাগান ধ্বংস করা শুধু একজনের কৃষকের ক্ষতি নয়, এটা কৃষি ও গ্রামীণ অর্থনীতির উপর চূড়ান্তভাবে আঘাত হানা। ঐদিন বৃহস্পতিবারে বিকাল বেলা মানববন্ধনে করে তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের ক্ষতি পূরণের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী কৃষক সাইফুল ইসলাম “দৈনিক আজকের জনবাণী” কে জানান, প্রায় ৯ থেকে ১০ মাস আগে ২২ বিঘা জমিতে কলার বাগান গড়ে তুলেন তিনি। জমি নিয়ে পূর্বে বিরোধের জেরে গত বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার বাগানে প্রায় ১৩ হাজার কলাগাছ কেটে দেয়। এতে তার ১৮ থেকে ২০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনা তিনি পত্নীতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
মানববন্ধনে স্থানীয় কৃষকরা বলেন, “দিনরাত পরিশ্রম করে একটি বাগান গড়ে তোলা হয়। রাতে অন্ধকারে সেই বাগান ধ্বংস করে দেওয়া অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবির জানাই। ”
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নিয়ামুল হক বলেন, “ঘটনার লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্যতা ও প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। এলাকায় ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
হেলাল, পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি 



















