একজন শিক্ষক থেকে রাজনীতিবিদ, পৌর চেয়ারম্যান থেকে সংসদ সদস্য, প্রতিমন্ত্রী থেকে একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের মহাসচিব—আর দীর্ঘ রাজনৈতিক উত্থান-পতন, মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবাস পেরিয়ে আজ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবন যেন বাংলাদেশের গত কয়েক দশকের রাজনীতিরই একটি দীর্ঘ প্রতিচ্ছবি।
২০২৬ সালের ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়ে ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ৩৪৯ জন। এর মধ্যে বৈধ ভোট ৩৪৩টি, অব্যবহৃত ব্যালট ৬টি।
এই নির্বাচন আরও তাৎপর্যপূর্ণ—কারণ ১৯৯১ সালের পর এটি বাংলাদেশের প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন।
শৈশব, পরিবার ও শিক্ষাজীবনঃ
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ২৬ জানুয়ারি, ১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনীতিবিদ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন তিনি। ছাত্রজীবনেই রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা তৈরি হয়।
ষাটের দশকের উত্তাল সময়ে তিনি পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বেও ছিলেন তিনি। অর্থাৎ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শুরু ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে নয়, বরং রাজপথের আন্দোলন ও ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে।
শিক্ষকতা থেকে প্রশাসনেঃ
রাজনীতির পাশাপাশি তাঁর কর্মজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় ছিল শিক্ষকতা। ১৯৭২ সালে তিনি ঢাকা কলেজে অর্থনীতির প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে সরকারি কলেজে শিক্ষকতা, পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর এবং ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনেও দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৯ সালের দিকে তিনি তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস. এ. বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফলে প্রশাসন, শিক্ষা ও রাজনীতি—তিনটি ভিন্ন পরিসরের অভিজ্ঞতা তাঁর কর্মজীবনে যুক্ত হয়।
মূলধারার রাজনীতিতে প্রবেশঃ
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন মির্জা ফখরুল। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর নব্বইয়ের দশকের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সময় তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হন।
রাজনীতির প্রথম দিকটা অবশ্য তাঁর জন্য একেবারে সাফল্যের ছিল না। ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে তিনি পরাজিত হন। কিন্তু পরাজয় তাঁকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দেয়নি; বরং ধীরে ধীরে দলীয় সংগঠনে তাঁর অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে।
সংসদ ও মন্ত্রিসভায় উত্থানঃ
দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের পর ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি প্রথমে কৃষি প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এটি ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম সুসময়। রাজপথের আন্দোলন থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার অংশ হয়ে ওঠেন তিনি। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পরিচয়—দুইয়ের সমন্বয়ে তাঁর ক্যারিয়ার নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়।
বিরোধীদলীয় রাজনীতির কঠিন অধ্যায়ঃ
২০০৬ সালের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে তীব্র মেরুকরণ তৈরি হয়, তার মধ্যেই মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিএনপির সাংগঠনিক সংকট, আন্দোলন, মামলা ও গ্রেপ্তারের সময় তিনি দলের সামনের সারির নেতায় পরিণত হন।
২০০৯ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব এবং ২০১১ সালে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হন। পরে ৩০ মার্চ ২০১৬ সালে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেন।
এই সময়টাই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি। বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তাঁকে একাধিক মামলার মুখোমুখি হতে হয় এবং কয়েক দফা গ্রেপ্তার ও কারাবরণ করতে হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার পাশে ফখরুল: রাজপথের এক দীর্ঘ অধ্যায়
বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির নেতৃত্বে আসার পর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৮০-এর দশকের আন্দোলন থেকে ১৯৯০ সালের গণআন্দোলন—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে তাঁর নেতৃত্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ১৯৯০ সালের আন্দোলনে বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক আন্দোলনের মুখে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ৪ ডিসেম্বর পদত্যাগের ঘোষণা দেন।
মির্জা ফখরুল অবশ্য তখনও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের শীর্ষ সারিতে ছিলেন না। কিন্তু পরবর্তী সময়ে যখন বিএনপি দীর্ঘ সময় বিরোধী দলে অবস্থান করে, তখন তিনি ধীরে ধীরে খালেদা জিয়ার অন্যতম আস্থাভাজন রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে সামনে আসেন।
একদিকে খালেদা জিয়া ছিলেন দলের রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার কেন্দ্রবিন্দু, অন্যদিকে মির্জা ফখরুল হয়ে ওঠেন দলের সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক বক্তব্যের অন্যতম প্রধান মুখ। এই সম্পর্কের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা আসে দীর্ঘ বিরোধী রাজনৈতিক সময়ে।
বেগম জিয়ার কারাবাস ও ফখরুলের রাজনৈতিক দায়িত্বঃ
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি ছিল বেগম খালেদা জিয়ার কারাবাসের সময়।
২০১৮ সালে খালেদা জিয়া দুর্নীতির মিথ্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্ব কার্যত এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। দলের চেয়ারপার্সন কারাগারে, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের বাইরে—এই পরিস্থিতিতে দল পরিচালনা, নেতাকর্মীদের ঐক্য ধরে রাখা এবং রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে নেওয়ার বড় দায়িত্ব পড়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর।
ফখরুল নিয়মিত খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি তুলেছেন। তাঁর বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে—দলের চেয়ারপার্সনের মুক্তি এবং গণতন্ত্রের আন্দোলন একই রাজনৈতিক সংগ্রামের অংশ।
২০২৩ সালে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফখরুল তাঁকে কারাবন্দি ও গৃহবন্দি রাখার অভিযোগ করেন এবং তাঁর মুক্তির দাবি জানান।
এই সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফখরুলের জন্য এটি শুধু একজন দলীয় নেত্রীর মুক্তির দাবি ছিল না; এটি ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযাত্রীর পাশে থাকার একটি প্রকাশ্য অবস্থান।
গ্রেপ্তার, মামলা ও কারাবাসঃ
২০১৫ সালে মির্জা ফখরুল দীর্ঘ সময় কারাগারে ছিলেন। তিনি প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে বহু মামলা ছিল।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আলোচিত গ্রেপ্তারগুলোর একটি ঘটে ২৯ অক্টোবর ২০২৩ সালে। ২৮ অক্টোবরের বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার পর তাঁকে গুলশানের বাসা থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পরে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তাঁকে আরও কয়েকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁর আইনজীবীরা এসব মামলাকে রাজনৈতিক হয়রানি হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন; অন্যদিকে মামলাগুলোতে সহিংসতা ও অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ ছিল।
রাজনীতির অন্ধকার থেকে নতুন দিনের সূচনাঃ
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য এখানেই—যে সময়ে তিনি বিরোধী দলের নেতা হিসেবে কারাগারে ছিলেন, সেই তিনিই কয়েক বছর পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হলেন।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের রূপান্তর ঘটে। পরবর্তী সময়ে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে আসে এবং ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এর পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে মির্জা ফখরুলের নাম আলোচনায় আসে।
২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: জীবনের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বাঁক
২০ আগস্ট ২০২৬—মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনে দিনটি বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পান ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। ফলে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
এই জয় শুধু একটি নির্বাচনী জয় নয়; এটি তাঁর প্রায় ছয় দশকের রাজনৈতিক যাত্রার একটি নাটকীয় পরিণতি।
একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা, পরে অর্থনীতির শিক্ষক; সরকারি কর্মকর্তা থেকে পৌর চেয়ারম্যান; পরাজিত সংসদ প্রার্থী থেকে সংসদ সদস্য; প্রতিমন্ত্রী থেকে বিরোধী দলের মহাসচিব; মামলা ও কারাবাস থেকে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ—এই দীর্ঘ পথচলা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল।
ফখরুলের ক্যারিয়ারের ভালো-মন্দের হিসাব
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনকে একমাত্রিকভাবে দেখলে তাঁর ক্যারিয়ারের প্রকৃত চিত্র পাওয়া যাবে না।
ভালো সময়ের মধ্যে রয়েছে ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া, দুই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন, বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে ধারাবাহিক উত্থান এবং শেষ পর্যন্ত ২০২৬ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া।
অন্যদিকে, কঠিন সময়ের মধ্যে রয়েছে একাধিক নির্বাচনে পরাজয়, বিরোধী রাজনীতির দীর্ঘ সময়, অসংখ্য মামলা, গ্রেপ্তার, কারাবাস এবং রাজনৈতিক সংঘাতের সময় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার চাপ। ২০১৫ সালে দীর্ঘ কারাবাস এবং ২০২৩-২৪ সালের গ্রেপ্তার ও মামলাগুলো তাঁর রাজনৈতিক সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
একজন রাজনীতিক থেকে রাষ্ট্রপতিঃ
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সাফল্যের পাশাপাশি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
রাষ্ট্রপতির পদ মূলত সাংবিধানিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদার পদ; দৈনন্দিন নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার হাতে থাকে। তাই রাষ্ট্রপতি হিসেবে ফখরুলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা।
দীর্ঘদিন তিনি একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা ছিলেন। এখন তাঁকে একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ভারসাম্য, নিরপেক্ষতা, আইনের শাসন এবং সব নাগরিকের আস্থার বিষয়টি সামনে রাখতে হবে। তাঁর রাজনৈতিক অতীত যতটা শক্তিশালী, রাষ্ট্রপতি হিসেবে নিরপেক্ষতার পরীক্ষাটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনকে যদি একটি বাক্যে প্রকাশ করতে হয়, তবে বলা যায়—এটি পরাজয়, সংগ্রাম, প্রতিকূলতা, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পৌঁছানোর এক দীর্ঘ অভিযাত্রা।
১৯৪৮ সালের ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান থেকে ২০২৬ সালের বঙ্গভবনের রাষ্ট্রপতি—এই যাত্রায় তিনি শিক্ষকতা করেছেন, প্রশাসনে কাজ করেছেন, নির্বাচনে হেরেছেন, নির্বাচনে জিতেছেন, মন্ত্রিসভায় থেকেছেন, বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন, মামলা ও কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয় পেয়েছেন।
২০ আগস্ট ২০২৬-এর ২৫৫ ভোটের জয় তাই শুধু একটি নির্বাচনের ফল নয়; এটি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় বাঁক—রাজপথের নেতা থেকে রাষ্ট্রের অভিভাবকের ভূমিকায় উত্তরণের মুহূর্ত।
তবে ইতিহাস শেষ কথা বলে না। রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় মূল্যায়ন হবে তিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে কতটা সাংবিধানিক, নিরপেক্ষ ও সর্বজনগ্রাহ্য রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেন—সেই ভবিষ্যৎ অধ্যায়ে
মোঃ আলফাত হোসেন, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট 

























