পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে মো. আমিনুল ইসলাম (১৭) নামের এক কিশোর ব্যবসায়ীকে মারধর করে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদলের এক নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. ইয়াছিন হাওলাদার ও তাঁর সহযোগী সোহানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার দাসপাড়া ইউনিয়নের ল্যাংড়া মুন্সির পোল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত আমিনুল ইসলাম বাউফল ইউনিয়নের পূর্ব জৌতা গ্রামের মো. হালিম হাওলাদারের ছেলে। তিনি কালাইয়া বন্দরে গুড়ের ব্যবসা করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ইয়াছিন হাওলাদার ও সোহান বেশ কিছুদিন ধরে আমিনুলের গুড়ের দোকানে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁরা ক্ষিপ্ত হন। বুধবার বিকেলে আমিনুল কালাইয়া বাজার থেকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ল্যাংড়া মুন্সির পোল এলাকায় পৌঁছালে ইয়াছিন, সোহানসহ কয়েকজন তাঁর পথরোধ করেন। পরে লাঠিসোঁটা, লোহার পাইপ ও হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে আমিনুলের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। একপর্যায়ে তাঁর কাছে থাকা গুড় বিক্রির ৩০ হাজার টাকা নিয়ে নেওয়া হয় এবং কালাইয়া বাজারে আর ব্যবসা না করার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনেরা আহত আমিনুলকে উদ্ধার করে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আহত আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি কালাইয়া বাজারে গুড়ের ব্যবসা করি। এর আগে কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, এখনও নেই। আমার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা না দেওয়ায় তারা আমাকে মারধর করে এবং আমার সঙ্গে থাকা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে যায়।’
অভিযোগের বিষয়ে বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. ইয়াছিন হাওলাদার বলেন, ‘আমিনুল ইসলামকে আমি মারিনি এবং ৩০ হাজার টাকাও নেইনি। ছাত্র আন্দোলনের সময় যারা পোলাপানের গায়ে হাত দিয়েছিল, তাদের পেয়েছি। আওয়ামী লীগকে পিটাইছি।’
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আসামিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে
মোঃ আব্দুল্লাহ আল লিখন বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 



















