ঢাকা ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে: মামা-ভাগ্নের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে আলোচনা

 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় এবারের নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও ইতালি প্রবাসী আনোয়ার হোসেন রানা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রকৌশলী রজিবুর রহমান মুহেল। আত্মীয়তার কারণে স্থানীয়দের কাছে সম্ভাব্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতোমধ্যে ‘মামা-ভাগ্নের লড়াই’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী রজিবুর রহমান মুহেল দীর্ঘদিন ধরে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় একটি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন বলেও মনে করছেন স্থানীয়দের অনেকে।
অন্যদিকে, সাবেক ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন রানা দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুবাদে এলাকায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এরই মধ্যে স্থানীয় ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন এবং নির্বাচনী মাঠে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুই সম্ভাব্য প্রার্থী একই পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় তাঁদের নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, বাজার ও গ্রামীণ আড্ডায়—সবখানেই চলছে সম্ভাব্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা ও নানা হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উভয় প্রার্থীরই নিজস্ব পরিচিতি ও সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। প্রকৌশলী রজিবুর রহমান মুহেল ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আনোয়ার হোসেন রানাও ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, সেটিই হবে মূল বিষয়। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এখন উত্তর খুরমা ইউনিয়নের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু একটাই—শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে মুখোমুখি হবেন কি না এই ঘনিষ্ঠ দুই আত্মীয়? আর যদি মুখোমুখি হন, তাহলে জনসমর্থনের পরীক্ষায় শেষ হাসি হাসবেন কে—‘মামা’ আনোয়ার হোসেন রানা, নাকি ‘ভাগ্নে’ প্রকৌশলী রজিবুর রহমান মুহেল।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে: মামা-ভাগ্নের সম্ভাব্য লড়াই নিয়ে আলোচনা

আপডেট সময় : ০৩:৪৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

 

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও কৌতূহল। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকায় এবারের নির্বাচনী মাঠে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়েছে। আলোচনায় রয়েছেন সাবেক ছাত্রনেতা ও ইতালি প্রবাসী আনোয়ার হোসেন রানা এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ আত্মীয়, যুক্তরাজ্য প্রবাসী প্রকৌশলী রজিবুর রহমান মুহেল। আত্মীয়তার কারণে স্থানীয়দের কাছে সম্ভাব্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা ইতোমধ্যে ‘মামা-ভাগ্নের লড়াই’ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকৌশলী রজিবুর রহমান মুহেল দীর্ঘদিন ধরে উত্তর খুরমা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে থাকার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার চেষ্টা করেছেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি ইতোমধ্যে এলাকায় একটি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেছেন বলেও মনে করছেন স্থানীয়দের অনেকে।
অন্যদিকে, সাবেক ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন রানা দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে প্রবাসজীবন কাটাচ্ছেন। ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয় থাকার সুবাদে এলাকায় তাঁর পরিচিতি রয়েছে বলে জানা গেছে। দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর উত্তর খুরমা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এরই মধ্যে স্থানীয় ভোটার ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন এবং নির্বাচনী মাঠে নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুই সম্ভাব্য প্রার্থী একই পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয় হওয়ায় তাঁদের নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, বাজার ও গ্রামীণ আড্ডায়—সবখানেই চলছে সম্ভাব্য এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আলোচনা ও নানা হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উভয় প্রার্থীরই নিজস্ব পরিচিতি ও সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে। প্রকৌশলী রজিবুর রহমান মুহেল ইতোমধ্যে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন বলে জানা গেছে। অন্যদিকে আনোয়ার হোসেন রানাও ভোটারদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন এবং নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, সেটিই হবে মূল বিষয়। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসবে, উত্তর খুরমা ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে সম্ভাব্য এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে আলোচনা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এখন উত্তর খুরমা ইউনিয়নের মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু একটাই—শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে মুখোমুখি হবেন কি না এই ঘনিষ্ঠ দুই আত্মীয়? আর যদি মুখোমুখি হন, তাহলে জনসমর্থনের পরীক্ষায় শেষ হাসি হাসবেন কে—‘মামা’ আনোয়ার হোসেন রানা, নাকি ‘ভাগ্নে’ প্রকৌশলী রজিবুর রহমান মুহেল।