ঢাকা ১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অবৈধ ড্রেজার ও বালুর ডাম্পার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড উখিয়া: ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে ৩০ পরিবার, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

 

 

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ভারী ডাম্পার ট্রাকে র অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে জনজীবনে। ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছেপটখালী খাল থেকে অপরিকল্পিত বালু তোলার কারণে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি পরিবার তাদের শেষ সম্বল বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। একই সঙ্গে একমাত্র গ্রামীণ সড়কটি বিধ্বস্ত হয়ে জেলা ও উপজেলার সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকাটি।
​স্থানীয়দের অভিযোগ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম গত প্রায় এক যুগ ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে ছেপটখালী খাল থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। খালের তলদেশে গভীর ড্রেজার বসিয়ে বেপরোয়া বালু তোলার ফলে আশপাশের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিতে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। এই নদীভাঙন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন ও শামসুল আলম প্রতিবাদ জানালে তাঁদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
​এদিকে জালিয়াপালং আর্মি ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের একমাত্র গ্রামীণ কাঁচা সড়কটি দিয়ে দিন-রাত বালুভর্তি ভারী ডাম্পার চলায় পুরো রাস্তায় তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল খাদ। একাধিক জায়গায় সড়কটি ভেঙে সরাসরি খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি কিংবা জরুরি কোনো যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে আকস্মিক অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন এলাকাবাসী।
​যোগাযোগব্যবস্থা ধসে পড়ার সুবাদে স্থানীয় ইজিবাইক ও টমটম চালকেরা শুরু করেছে বাড়তি ভাড়া আদায়। স্কুল-মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া। অতিরিক্ত যাতায়াত খরচের চাপ সামলাতে না পেরে অনেক দরিদ্র অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
​নিজেদের মাথার ওপরের ছাদ ও যাতায়াতের পথটুকু বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনস্বার্থে বিধ্বস্ত সড়কটি টেকসই সংস্কার করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

অবৈধ ড্রেজার ও বালুর ডাম্পার তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড উখিয়া: ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে ৩০ পরিবার, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন

আপডেট সময় : ০৬:০২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

 

 

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও ভারী ডাম্পার ট্রাকে র অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে জনজীবনে। ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছেপটখালী খাল থেকে অপরিকল্পিত বালু তোলার কারণে অন্তত ২০ থেকে ৩০টি পরিবার তাদের শেষ সম্বল বসতভিটা ও ফসলি জমি হারানোর আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে। একই সঙ্গে একমাত্র গ্রামীণ সড়কটি বিধ্বস্ত হয়ে জেলা ও উপজেলার সাথে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকাটি।
​স্থানীয়দের অভিযোগ, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম গত প্রায় এক যুগ ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে প্রকাশ্যে ছেপটখালী খাল থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। খালের তলদেশে গভীর ড্রেজার বসিয়ে বেপরোয়া বালু তোলার ফলে আশপাশের বসতবাড়ি ও আবাদি জমিতে ভয়াবহ ধস দেখা দিয়েছে। এই নদীভাঙন ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসেন ও শামসুল আলম প্রতিবাদ জানালে তাঁদের নানাভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অপপ্রচার চালিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
​এদিকে জালিয়াপালং আর্মি ক্যাম্পের পশ্চিম পাশের একমাত্র গ্রামীণ কাঁচা সড়কটি দিয়ে দিন-রাত বালুভর্তি ভারী ডাম্পার চলায় পুরো রাস্তায় তৈরি হয়েছে বিশাল বিশাল খাদ। একাধিক জায়গায় সড়কটি ভেঙে সরাসরি খালের গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে অ্যাম্বুলেন্স, সিএনজি কিংবা জরুরি কোনো যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে আকস্মিক অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হিমশিম খাচ্ছেন এলাকাবাসী।
​যোগাযোগব্যবস্থা ধসে পড়ার সুবাদে স্থানীয় ইজিবাইক ও টমটম চালকেরা শুরু করেছে বাড়তি ভাড়া আদায়। স্কুল-মাদ্রাসাগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া। অতিরিক্ত যাতায়াত খরচের চাপ সামলাতে না পেরে অনেক দরিদ্র অভিভাবক তাঁদের সন্তানদের পড়ালেখা বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
​নিজেদের মাথার ওপরের ছাদ ও যাতায়াতের পথটুকু বাঁচানোর আকুতি জানিয়ে স্থানীয় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে অবৈধ ড্রেজার জব্দ, বালু সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনস্বার্থে বিধ্বস্ত সড়কটি টেকসই সংস্কার করার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।