নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে হামলায় গুরুতর আহত সুশীল গীর ওরফে শিয়াল গীর (৫০) নামে এক ব্যক্তি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৮ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের দক্ষিণ বাহাগিলী সন্ন্যাসীপাড়া এলাকায় পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে সুশীল গীরের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পরিবারের এক নারী সদস্যকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবারের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, হামলার সময় প্রধান আসামি আকাশ রায় (২২) লোহার রড দিয়ে সুশীল গীরের মাথায় আঘাত করেন। পরে অন্য অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় গুরুতর আহত সুশীল গীরকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা আট দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এজাহারে ৭ জনের নাম
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শ্রী কাজল গীর (২৫) কিশোরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। এজাহারে অভিযুক্ত হিসেবে আকাশ রায় (২২), শ্যামল রায় (৪৫), ববিতা রানী রায় (৩৮), জুই রানী গীর (২০), বিকাশ গীর (৪৫), ছবিতা রানী গীর (৩৫) ও সুশিল গীর (৫০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রধান অভিযুক্ত আকাশ রায় মাদকাসক্ত। তিনি মদ, গাঁজা ও ইয়াবাসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবনে আসক্ত হয়ে প্রায়ই গভীর রাতে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতেন এবং পারিবারিক কলহে জড়াতেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তিনি গ্রামবাসীদের প্রাণনাশের হুমকি দিতেন বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের।
পুলিশের বক্তব্য
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল গফুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হামলায় আহত সুশীল গীর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার পর থেকে প্রধান আসামি আকাশ রায়সহ অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
তবে প্রকাশের আগে একটি বিষয় অবশ্যই মিলিয়ে নেবেন: এজাহারে অভিযুক্তদের তালিকায় নিহত সুশীল গীরের নাম রয়েছে—এটি নামের ভুল/টাইপো কি না, কিশোরগঞ্জ থানার এজাহার থেকে নিশ্চিত করে নেওয়া জরুরি। এছাড়া শিরোনামে “ভাগিনার লাঠির আঘাত” বলা হলেও প্রতিবেদনের এজাহারভিত্তিক অংশে আকাশ রায়ের বিরুদ্ধে লোহার রড দিয়ে আঘাতের অভিযোগ রয়েছে। এই দুই তথ্যও মূল এজাহারের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া ভালো
মোঃ মোকলেছুর রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি: 



















