নওগাঁর বদলগাছীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন সরকারি জায়গা দখল করে দোকানঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বদলগাছী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের দেউলিয়া গ্রামের ব্রীজসংলগ্ন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ঘেঁষে বাঁধের অংশের মাটি সরিয়ে আরসিসি পিলার স্থাপন করে দোকানঘর নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দেউলিয়া গ্রামের রমজান ও দেউলিয়া বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বকুল হোসেন ওই সরকারি জায়গায় স্থাপনা নির্মাণ করছেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রমজান ও বকুল হোসেনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সরকারি জায়গায় নয়, নিজেদের পৈতৃক জমিতে ঘর নির্মাণ করছেন।
বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইশরাত জাহান ছনিকে জানানো হলে তিনি আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম রেজাউল কবীর পল্টনকে নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।
অভিযোগ রয়েছে, ইউএনওর নির্দেশনার পরও শুক্রবার সকালে আবারও নির্মাণকাজ শুরু করা হয়। পরে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ চলতে দেখেন এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে থাকেন।
এ সময় দেউলিয়া গ্রামের মানিক হোসেন (৪২), শাহিন (৫৩), সালাম (৫৫) ও রমজান (৩২)সহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর রাজধানী টিভির নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক রাজু ইসলাম বদলগাছী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি বলেন, “দেউলিয়ায় তথ্য সংগ্রহের সময় আমাদের বাধা দেওয়া হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আমি থানায় জিডি করেছি।”
আধাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম রেজাউল কবীর পল্টন বলেন, “ইউএনও আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং কাজ বন্ধ রাখতে বলেছেন। তিনি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরবর্তী নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। শুক্রবার আবার কাজ শুরু হয়েছে—এ বিষয়টি আমি জানতাম না। সাংবাদিকদের কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পেরেছি। প্রশাসনকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলছি।”
ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাসান বলেন, “বিষয়টি আমি জানি। তবে এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাহেব বক্তব্য দেবেন।”
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইশরাত জাহান ছনি বলেন, “গতকাল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে বিষয়টি জানিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আমি নিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করব—এ কথাও জানানো হয়েছে।”
এ বিষয়ে জানতে বদলগাছী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, “জিডি হাতে পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগটি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও জায়গার অবস্থান নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সংগ্রহে বাধা ও হুমকির অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ফিরোজ আহম্মেদ নওগাঁ প্রতিনিধি: 



















