গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবের ইয়াবা সেবনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া প্রায় দুই মিনিটের ওই ভিডিওতে হাবিবুর রহমান হাবিবকে ইয়াবা সেবনের মতো কর্মকাণ্ড করতে দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এটি নিয়ে নানা মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। পরে ভিডিওটির বিষয়ে হাবিবুর রহমান হাবিবের সঙ্গে কথা বলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া হয়।
হাবিবুর রহমান হাবিব ভিডিওতে ইয়াবা সেবনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, নিয়মিত মাদক সেবন করেন না। বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে মজা করার সময় এমনটি করেছেন।
হাবিব বলেন, আমি মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত নই। বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে পিকনিকে গিয়ে মজা করতে গিয়ে এমনটা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে ভিডিওটি পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নসহ ফুলছড়ির বিভিন্ন এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ একজন রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির এমন কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাদকবিরোধী প্রচারণা ও সামাজিক সচেতনতার কথা বলা হলেও একজন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতার ইয়াবা সেবনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা উদ্বেগজনক। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত।
তবে হাবিবুর রহমান হাবিবের দাবি, ভিডিওটি ব্যবহার করে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
ফুলছড়ি উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জয়নাল আবেদীন জয় বলেন, ছাত্রদল একটি সুশৃঙ্খল ও আদর্শভিত্তিক ছাত্রসংগঠন। সংগঠনের কোনো নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মতো অভিযোগ উঠলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমরা দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের পক্ষ থেকে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
(মোঃইসমাইল সিরাজী) গাইবান্ধা প্রতিনিধি 



















