ঢাকা ০৮:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তারাগঞ্জে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার গাছের চারা রোপণ

 

রংপুরের তারাগঞ্জে ‘সবুজ থাকুক প্রকৃতি, নিরাপদ হোক আগামী প্রজন্ম’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিয়ারডাঙ্গা বড় কবরস্থান, খলেয়া-নন্দরাম থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিয়াবাড়ী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এসব চারা রোপণ করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিলের আওতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মোনাব্বর হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ৪ নম্বর হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু কুমারেশ চন্দ্র রায়। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সকল ইউপি সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবক ও গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মোঃ মোনাব্বর হোসেন বলেন, গাছ মানুষের প্রকৃত বন্ধু। পৃথিবীকে শীতল ও বাসযোগ্য রাখতে গাছের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ৮০০টি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার এক হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তারাগঞ্জ উপজেলাকে সবুজে সাজাতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে ব্যক্তি উদ্যোগে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান বাবু কুমারেশ চন্দ্র রায় বলেন, হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের মাঝামাঝি সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ প্রজাতির গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বনায়ন কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে চারা রোপণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই গাছগুলো শুধু ইউনিয়ন পরিষদের সম্পদ নয়, এগুলো পুরো এলাকার মানুষের সম্পদ। রোপণ করা প্রতিটি চারা যাতে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের এগিয়ে আসতে হবে। গরু-ছাগল দিয়ে গাছের ক্ষতি করা, গাছ ভেঙে ফেলা বা কোনোভাবে নষ্ট না করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষার বিষয়টি স্থানীয়দের খেয়াল রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

চেয়ারম্যান বলেন, একটি গাছ রোপণ করাই দায়িত্বের শেষ নয়; গাছটিকে বাঁচিয়ে বড় করাই আমাদের প্রকৃত দায়িত্ব। তাই ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি এলাকার সচেতন নাগরিকদেরও রোপণ করা গাছগুলোর প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ইউপি সদস্যরাও রোপণ করা চারাগুলো রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন। তারা বলেন, সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা সবুজ বেষ্টনী ভবিষ্যতে পথচারীদের ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং পরিবেশ রক্ষায় এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, সরকারি বা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণের পর গাছের পরিচর্যা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়কের দুই পাশে রোপণ করা এসব চারা নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষার মাধ্যমে বড় হলে একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে ছায়া, ফল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান—এই গাছগুলো আমাদের সবার। আসুন, গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমরা সবাই মিলে পালন করি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

তারাগঞ্জে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার গাছের চারা রোপণ

আপডেট সময় : ০২:০০:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

 

রংপুরের তারাগঞ্জে ‘সবুজ থাকুক প্রকৃতি, নিরাপদ হোক আগামী প্রজন্ম’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নে প্রায় এক হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খিয়ারডাঙ্গা বড় কবরস্থান, খলেয়া-নন্দরাম থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিয়াবাড়ী পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে এসব চারা রোপণ করা হয়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব তহবিলের আওতায় এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তারাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মোনাব্বর হোসেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ৪ নম্বর হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাবু কুমারেশ চন্দ্র রায়। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদের সকল ইউপি সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবক ও গণমাধ্যমকর্মীসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনও মোঃ মোনাব্বর হোসেন বলেন, গাছ মানুষের প্রকৃত বন্ধু। পৃথিবীকে শীতল ও বাসযোগ্য রাখতে গাছের কোনো বিকল্প নেই। সরকারি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ৮০০টি গাছের চারা রোপণ করা হবে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার এক হাজার চারা রোপণ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তারাগঞ্জ উপজেলাকে সবুজে সাজাতে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রজাতির চারা রোপণ করা হবে। পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে ব্যক্তি উদ্যোগে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর আহ্বান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান বাবু কুমারেশ চন্দ্র রায় বলেন, হাড়িয়ারকুঠি ইউনিয়নের দুটি ওয়ার্ডের মাঝামাঝি সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ প্রজাতির গাছ রোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের বনায়ন কর্মসূচির সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও পর্যায়ক্রমে চারা রোপণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এই গাছগুলো শুধু ইউনিয়ন পরিষদের সম্পদ নয়, এগুলো পুরো এলাকার মানুষের সম্পদ। রোপণ করা প্রতিটি চারা যাতে বেড়ে উঠতে পারে, সেজন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের এগিয়ে আসতে হবে। গরু-ছাগল দিয়ে গাছের ক্ষতি করা, গাছ ভেঙে ফেলা বা কোনোভাবে নষ্ট না করার জন্য তিনি সবাইকে আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোপণ করা গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষার বিষয়টি স্থানীয়দের খেয়াল রাখার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান তিনি।

চেয়ারম্যান বলেন, একটি গাছ রোপণ করাই দায়িত্বের শেষ নয়; গাছটিকে বাঁচিয়ে বড় করাই আমাদের প্রকৃত দায়িত্ব। তাই ইউনিয়ন পরিষদের পাশাপাশি এলাকার সচেতন নাগরিকদেরও রোপণ করা গাছগুলোর প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় উপস্থিত ইউপি সদস্যরাও রোপণ করা চারাগুলো রক্ষায় স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করেন। তারা বলেন, সড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা সবুজ বেষ্টনী ভবিষ্যতে পথচারীদের ছায়া দেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও এলাকার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মসূচিতে উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন এবং পরিবেশ রক্ষায় এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তারা বলেন, সরকারি বা ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণের পর গাছের পরিচর্যা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সড়কের দুই পাশে রোপণ করা এসব চারা নিয়মিত পরিচর্যা ও সুরক্ষার মাধ্যমে বড় হলে একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে ছায়া, ফল ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান—এই গাছগুলো আমাদের সবার। আসুন, গাছ লাগানোর পাশাপাশি গাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখার দায়িত্বও আমরা সবাই মিলে পালন করি।