ঢাকা ০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে কৃতকার্য একজন অকৃতকার্য সতেরো

 

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি এবং অন্য ১৬ জন অকৃতকার্য হয়েছে। গত সোমবার দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়।

অথচ মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-সংকট ছিল না। বরং ১৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে ১৮ জন শিক্ষার্থী ছিল। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের মান,প্রাইভেট বাণিজ্য, পাঠদান পক্রিয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি, পাঠ গ্রহণে অনীহা ও অভিভাবকদের অসচেতনতার বিষয়গুলো বারবার সামনে আসছে।

উপজেলার উমার ইউনিয়নের বেলঘরিয়া এলাকার বাসিন্দারা বলেন, দিন যত যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হারাচ্ছে এবং মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। শিক্ষকেরা শাসন করলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়। মাদ্রাসায় ঠিকঠাক না গিয়ে মোবাইলে গেম নিয়ে পড়ে থাকলে এমন রেজাল্ট তো হবেই। সন্তানদের ওপর নজর না দেওয়ায় অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকেও দায়ী করেন তাঁরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর স্কুলপর্যায়ে এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৬১৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৯৪৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৬৬৬ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ অথচ সারাদেশে পাশের হার ৬২ শতাংশ।

মাদ্রাসাপর্যায়ে ৬২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পাস করেছে ২৭৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪৮ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ভোকেশনাল পর্যায়ে ১১৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৯৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন ও ফেল করেছে ২২ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে উমার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরা গ্রামের আবতাব হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান বলে, ‘গণিত পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক অংশে সমস্যা হয়েছিল। এ ছাড়া ওই দিন আধা ঘণ্টার জন্য ইউএনও স্যার আমার খাতা জব্দ করে রেখেছিলেন। এ কারণে হয়তো ফেল করেছি।’

অভিভাবক জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আবতাবের ওই মাদ্রাসায় ২ নম্বর রোল ছিল, কিন্তু কী কারণে সে ফেল করেছে, তা তো ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।’ তবে সারা দিন মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ও গেম খেলার কথা স্বীকার করেন আবতাবের মা।

বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রতিবছর তো আর রেজাল্ট ভালো হয়না শিক্ষার্থীদের জন্যই এমন ফলাফল । মাদ্রাসায় নিয়মিত আসতে না পারার কারণে প্রায় সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ক্লাসে এনে পাঠদান করাতে হয়। এ কারণেই রেজাল্টের এমন বিপর্যয় ঘটেছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু বলতে পারবো না, প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

১৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে কৃতকার্য একজন অকৃতকার্য সতেরো

আপডেট সময় : ১০:০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

 

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ ১৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একজন পরীক্ষায় অংশ নেয়নি এবং অন্য ১৬ জন অকৃতকার্য হয়েছে। গত সোমবার দাখিল পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়।

অথচ মাদ্রাসাটিতে শিক্ষক-সংকট ছিল না। বরং ১৫ জন শিক্ষকের বিপরীতে ১৮ জন শিক্ষার্থী ছিল। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের মান,প্রাইভেট বাণিজ্য, পাঠদান পক্রিয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মোবাইল আসক্তি, পাঠ গ্রহণে অনীহা ও অভিভাবকদের অসচেতনতার বিষয়গুলো বারবার সামনে আসছে।

উপজেলার উমার ইউনিয়নের বেলঘরিয়া এলাকার বাসিন্দারা বলেন, দিন যত যাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগী হারাচ্ছে এবং মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়ছে। শিক্ষকেরা শাসন করলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের ওপর চড়াও হয়। মাদ্রাসায় ঠিকঠাক না গিয়ে মোবাইলে গেম নিয়ে পড়ে থাকলে এমন রেজাল্ট তো হবেই। সন্তানদের ওপর নজর না দেওয়ায় অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকেও দায়ী করেন তাঁরা।

উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর স্কুলপর্যায়ে এসএসসি পরীক্ষায় ১ হাজার ৬১৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৯৪৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৬৬৬ জন। পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ অথচ সারাদেশে পাশের হার ৬২ শতাংশ।

মাদ্রাসাপর্যায়ে ৬২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। পাস করেছে ২৭৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে তিনজন ও অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪৮ জন। পাসের হার ৪৪ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ভোকেশনাল পর্যায়ে ১১৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৯৬ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে চারজন ও ফেল করেছে ২২ জন। পাসের হার ৮১ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে উমার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্দরা গ্রামের আবতাব হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান বলে, ‘গণিত পরীক্ষায় নৈর্ব্যক্তিক অংশে সমস্যা হয়েছিল। এ ছাড়া ওই দিন আধা ঘণ্টার জন্য ইউএনও স্যার আমার খাতা জব্দ করে রেখেছিলেন। এ কারণে হয়তো ফেল করেছি।’

অভিভাবক জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আবতাবের ওই মাদ্রাসায় ২ নম্বর রোল ছিল, কিন্তু কী কারণে সে ফেল করেছে, তা তো ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।’ তবে সারা দিন মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট ও গেম খেলার কথা স্বীকার করেন আবতাবের মা।

বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের রেজাল্ট এমন হওয়াটাই স্বাভাবিক। প্রতিবছর তো আর রেজাল্ট ভালো হয়না শিক্ষার্থীদের জন্যই এমন ফলাফল । মাদ্রাসায় নিয়মিত আসতে না পারার কারণে প্রায় সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের ক্লাসে এনে পাঠদান করাতে হয়। এ কারণেই রেজাল্টের এমন বিপর্যয় ঘটেছে।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এ বিষয়ে আমি তেমন কিছু বলতে পারবো না, প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ ভালো বলতে পারবেন। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।