পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলায় দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। উপজেলার পাঁচটি মাদ্রাসা থেকে দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মোট ৫৩ জন শিক্ষার্থীর একজনও পাস করতে পারেনি। এছাড়া আরও কয়েকটি মাদ্রাসায় পাসের হার আশানুরূপ না হওয়ায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উদ্বেগ।
প্রাপ্ত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার রাজপাশা বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ৮ জন, পশারিবুনিয়া নূর মোহাম্মদ কারিগরি দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১৭ জন, জামেয়া-ই-উম্মুল কুরআন ঈদগাহ দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১১ জন, দারুল মুহাম্মদ আদর্শ বালিকা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১০ জন এবং চরখালী দাখিল মাদ্রাসা (নন-এমপিও) থেকে ৭ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। তবে এসব প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এসব প্রতিষ্ঠানে শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় মাদ্রাসাগুলোর পাঠদান, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার প্রস্তুতি, শিক্ষক সংকট ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে উপজেলার আরও কয়েকটি মাদ্রাসার ফলাফলও সন্তোষজনক হয়নি। এর মধ্যে আলগাজ্জালি ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় ৫৭ জনের মধ্যে ১০ জন, ভান্ডারিয়া শাহাবুদ্দিন কামিল মাদ্রাসায় ৫০ জনের মধ্যে ১৪ জন, নয়াখালী মাটিভাংগা আলিম মাদ্রাসায় ১৭ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন, সিংহখালী দাখিল মাদ্রাসায় ১৮ জনের মধ্যে ২ জন, আতরখালী ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় ১২ জনের মধ্যে ১ জন, পূর্ব মাটি ভাঙ্গা মোন্তাজিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৪ জনের মধ্যে ২ জন এবং উত্তর ধাওয়া আলহাজ্ব কাশেমিয়া আলিম মাদ্রাসায় ১০ জনের মধ্যে মাত্র ১ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে।
ফলে সামগ্রিকভাবে ভান্ডারিয়া উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিভাবকদের অভিযোগ, অনেক প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের পাঠের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষার আগে যথাযথ প্রস্তুতির ঘাটতি রয়েছে। তবে ফলাফল বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন অভিভাবক বলেন, “কেন এত শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে, সেটি খুঁজে বের করা দরকার। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর একাডেমিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করা উচিত।”
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়া নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. হাসিবুল হাসান বলেন, “ভান্ডারিয়া উপজেলায় এ বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল তুলনামূলকভাবে ভালো হলেও দাখিল পরীক্ষার ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। বিশেষ করে যেসব প্রতিষ্ঠানে একজন শিক্ষার্থীও পাস করেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে শোকজ করা হবে। একই সঙ্গে ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ জানতে চাওয়া হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
উপজেলায় মোট ৩৬টি মাদ্রাসা থেকে ৭৭০ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ২৬৫ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। উপজেলায় দাখিল পরীক্ষায় মোট পাসের হার ৩৪ দশমিক ৪১ শতাংশ।
সচেতন মহলের দাবি, ভান্ডারিয়ার যেসব মাদ্রাসায় দাখিল পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী পাস করেনি এবং যেসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার আশঙ্কাজনকভাবে কম, সেসব প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ও শিক্ষার পরিবেশ পর্যালোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
মোঃ সিফাতুল্লাহ ভান্ডারিয়া উপজেলা প্রতিনিধি, দৈনিক বাংলার সংবাদ 



















