ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাউফলে খাস জমিতে মহিষ চরাতেও দিতে হয় চাঁদা, মহিষপ্রতি ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচর এলাকায় খাস জমিতে মহিষ চরাতে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাঈনউদ্দিন (২৭) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে খাস জমিতে মহিষ চরাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় মহিষ পালনকারীরা।
স্থানীয় সূত্র ও মহিষ পালনকারীদের অভিযোগ, লালচর এলাকার খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা মহিষ চরিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে ওই এলাকায় মহিষ চরাতে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
মহিষ পালনকারী রেজাউল খাঁ বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা লালচরের খাস জমিতে মহিষ চরাতাম। মাঈনউদ্দিন আমাদের বলেছেন, মহিষপ্রতি ২০০ টাকা না দিলে ঘাস খাওয়াতে দেওয়া হবে না। পরে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে দিয়েছেন।’ তাঁর দাবি, এভাবে ৪৭৮টি মহিষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।
আরেক মহিষ পালনকারী ইদ্রিস দালাল বলেন, চরাঞ্চলের খাস জমিতে ঘাস খাওয়ানোর ওপর নির্ভর করেই অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে মহিষ পালন করছেন। খাস জমিতে মহিষ চরানোর জন্য টাকা দিতে হলে তাদের খরচ বেড়ে যায়। এতে মহিষ পালন করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, লালচর এলাকায় খাস জমিতে মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে টাকা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। খাস জমিতে মহিষ চরানোর জন্য এভাবে টাকা নেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাঈনউদ্দিন বলেন, ‘আমি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলাম। ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা এ বিষয়ে সালিশের ব্যবস্থা করছেন। মাছ ধরার চাই ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় জরিমানা হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছে। আমার নিজের মহিষের জন্যও জরিমানা দিয়েছি। তারা বিষয়টি অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় মোস্তফা ফকির ও জামাল মাঝি বিষয়টি নিয়ে সালিশ করছেন। আমার কাছে টাকা রাখতে বলায় আমি টাকা রেখেছি।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বাউফলে খাস জমিতে মহিষ চরাতেও দিতে হয় চাঁদা, মহিষপ্রতি ২০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১০:৫৮:১২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

 

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের লালচর এলাকায় খাস জমিতে মহিষ চরাতে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাঈনউদ্দিন (২৭) নামে এক সাবেক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। টাকা না দিলে খাস জমিতে মহিষ চরাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করেছেন স্থানীয় মহিষ পালনকারীরা।
স্থানীয় সূত্র ও মহিষ পালনকারীদের অভিযোগ, লালচর এলাকার খাস জমিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা মহিষ চরিয়ে আসছেন। সম্প্রতি মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে দিতে বলা হয়। টাকা না দিলে ওই এলাকায় মহিষ চরাতে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
মহিষ পালনকারী রেজাউল খাঁ বলেন, ‘বিগত দিনে আমরা লালচরের খাস জমিতে মহিষ চরাতাম। মাঈনউদ্দিন আমাদের বলেছেন, মহিষপ্রতি ২০০ টাকা না দিলে ঘাস খাওয়াতে দেওয়া হবে না। পরে স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে মহিষপ্রতি ২০০ টাকা করে দিয়েছেন।’ তাঁর দাবি, এভাবে ৪৭৮টি মহিষের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে।
আরেক মহিষ পালনকারী ইদ্রিস দালাল বলেন, চরাঞ্চলের খাস জমিতে ঘাস খাওয়ানোর ওপর নির্ভর করেই অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে মহিষ পালন করছেন। খাস জমিতে মহিষ চরানোর জন্য টাকা দিতে হলে তাদের খরচ বেড়ে যায়। এতে মহিষ পালন করে লাভ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, লালচর এলাকায় খাস জমিতে মহিষ চরানোকে কেন্দ্র করে টাকা আদায়ের বিষয়টি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছে। খাস জমিতে মহিষ চরানোর জন্য এভাবে টাকা নেওয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাঈনউদ্দিন বলেন, ‘আমি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলাম। ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যরা এ বিষয়ে সালিশের ব্যবস্থা করছেন। মাছ ধরার চাই ভেঙে যাওয়ার ঘটনায় জরিমানা হিসেবে টাকা নেওয়া হয়েছে। আমার নিজের মহিষের জন্যও জরিমানা দিয়েছি। তারা বিষয়টি অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্থানীয় মোস্তফা ফকির ও জামাল মাঝি বিষয়টি নিয়ে সালিশ করছেন। আমার কাছে টাকা রাখতে বলায় আমি টাকা রেখেছি।’
এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।