ঢাকা ০১:২৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি গুজবের আগুন, কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট বর্তমানে শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা, আমদানিনির্ভরতা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশই কমবেশি এই সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, কোথাও গ্যাসের সংকট, আবার কোথাও শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটও ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি দেশে আরেকটি বিষয় ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, গুজব, ভুয়া ছবি-ভিডিও এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিস্তার। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। একটি মিথ্যা তথ্য মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। কখন বিদ্যুৎ থাকবে, কোথায় কত ঘণ্টা লোডশেডিং হবে, জ্বালানি পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রের পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে অনেকেই তথ্যের উৎস হিসেবে গ্রহণ করছেন। এতে বাস্তব সংকটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গুজবের কৃত্রিম আতঙ্ক।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের সমর্থকরা পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের তথ্য প্রচার করছেন। এর মধ্যে সত্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে যাচাইহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও। ধর্মীয় আবেগ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষকে সামগ্রিকভাবে দায়ী না করে, ব্যক্তি বা সংগঠন যে-ই হোক না কেন, প্রমাণিত মিথ্যা তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কারণ গুজব এখন আর কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাধারণ সমস্যা নয়; এটি জননিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। একটি মিথ্যা খবরকে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করে মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ তৈরি হতে পারে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তথ্য ও গুজবের সংকট মোকাবিলাকেও রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে দ্রুত, নির্ভুল ও সহজবোধ্য তথ্য দেওয়া। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, গ্যাস সরবরাহ, জ্বালানি আমদানি এবং সম্ভাব্য লোডশেডিং সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করলে গুজবের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্য শনাক্ত, যাচাই ও খণ্ডনের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তবে গুজব প্রতিরোধের নামে যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। সরকারের সমালোচনা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বাভাবিক অংশ হতে পারে না। তাই ব্যবস্থা নিতে হবে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রমাণ ও বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে—কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গুজব মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; জনগণের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। কোনো চাঞ্চল্যকর খবর দেখেই তা শেয়ার না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এবং স্বীকৃত ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় যাচাইহীন তথ্য প্রকাশ না করে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একটি বাস্তব সমস্যা এবং এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। একইভাবে গুজব ও অপপ্রচারও একটি বাস্তব সামাজিক সমস্যা, যার মোকাবিলায় প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ। দেশের মানুষ বিদ্যুতের আলো যেমন চায়, তেমনি চায় সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের আলো। সাময়িক বিদ্যুৎ সংকট একসময় কেটে যেতে পারে, কিন্তু মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস ও বিভাজনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকারকে দ্রুত, কার্যকর, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে—সত্য তথ্য জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া, গুজব শনাক্ত করা এবং প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে পরিচয়-নির্বিশেষে আইন প্রয়োগ করা। তাহলেই সংকটের অন্ধকারের পাশাপাশি গুজবের অন্ধকার থেকেও দেশকে বের করে আনা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি গুজবের আগুন, কার্যকর রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের দাবি

আপডেট সময় : ০৯:০১:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট বর্তমানে শুধু বাংলাদেশের নয়, এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা, আমদানিনির্ভরতা এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশই কমবেশি এই সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। বাংলাদেশেও এর প্রভাব পড়েছে। ফলে কোথাও বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি, কোথাও গ্যাসের সংকট, আবার কোথাও শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যে এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উন্নতি ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটও ধীরে ধীরে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
কিন্তু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি দেশে আরেকটি বিষয় ক্রমেই উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, গুজব, ভুয়া ছবি-ভিডিও এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিস্তার। বিশেষ করে রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে কেন্দ্র করে যাচাই-বাছাই ছাড়াই নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। একটি মিথ্যা তথ্য মুহূর্তের মধ্যে হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিদ্যুৎ সংকটকে কেন্দ্র করেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের অতিরঞ্জিত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। কখন বিদ্যুৎ থাকবে, কোথায় কত ঘণ্টা লোডশেডিং হবে, জ্বালানি পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সূত্রের পরিবর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে অনেকেই তথ্যের উৎস হিসেবে গ্রহণ করছেন। এতে বাস্তব সংকটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে গুজবের কৃত্রিম আতঙ্ক।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের সমর্থকরা পরস্পরের বিরুদ্ধে নানা ধরনের তথ্য প্রচার করছেন। এর মধ্যে সত্য যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে যাচাইহীন ও বিভ্রান্তিকর তথ্যও। ধর্মীয় আবেগ এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের মতো সংবেদনশীল বিষয়কে ব্যবহার করে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে এসেছে। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয়ের মানুষকে সামগ্রিকভাবে দায়ী না করে, ব্যক্তি বা সংগঠন যে-ই হোক না কেন, প্রমাণিত মিথ্যা তথ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কারণ গুজব এখন আর কেবল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সাধারণ সমস্যা নয়; এটি জননিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। একটি মিথ্যা খবরকে সত্য হিসেবে বিশ্বাস করে মানুষ উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বিদ্বেষ তৈরি হতে পারে, এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অবনতি ঘটতে পারে। ফলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি তথ্য ও গুজবের সংকট মোকাবিলাকেও রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা প্রয়োজন।
এক্ষেত্রে সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে দ্রুত, নির্ভুল ও সহজবোধ্য তথ্য দেওয়া। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, গ্যাস সরবরাহ, জ্বালানি আমদানি এবং সম্ভাব্য লোডশেডিং সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করলে গুজবের সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া মিথ্যা তথ্য শনাক্ত, যাচাই ও খণ্ডনের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ফ্যাক্টচেকিং সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তবে গুজব প্রতিরোধের নামে যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে। সরকারের সমালোচনা, রাজনৈতিক মতপার্থক্য বা প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। কিন্তু ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি, সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট কিংবা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে হয়রানির মুখে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মতপ্রকাশের স্বাধীনতার স্বাভাবিক অংশ হতে পারে না। তাই ব্যবস্থা নিতে হবে নির্দিষ্ট অভিযোগ, প্রমাণ ও বিদ্যমান আইনের ভিত্তিতে—কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, গুজব মোকাবিলায় শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; জনগণের মধ্যে তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। কোনো চাঞ্চল্যকর খবর দেখেই তা শেয়ার না করে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম এবং স্বীকৃত ফ্যাক্টচেকিং প্ল্যাটফর্ম থেকে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গণমাধ্যমের দায়িত্বও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত সংবাদ প্রকাশের প্রতিযোগিতায় যাচাইহীন তথ্য প্রকাশ না করে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট একটি বাস্তব সমস্যা এবং এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। একইভাবে গুজব ও অপপ্রচারও একটি বাস্তব সামাজিক সমস্যা, যার মোকাবিলায় প্রয়োজন জাতীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ। দেশের মানুষ বিদ্যুতের আলো যেমন চায়, তেমনি চায় সত্য ও নির্ভরযোগ্য তথ্যের আলো। সাময়িক বিদ্যুৎ সংকট একসময় কেটে যেতে পারে, কিন্তু মিথ্যা তথ্যের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া অবিশ্বাস ও বিভাজনের প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট সমাধানের পাশাপাশি মিথ্যা তথ্য, গুজব ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সরকারকে দ্রুত, কার্যকর, নিরপেক্ষ ও আইনসম্মত ব্যবস্থা নিতে হবে। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হবে—সত্য তথ্য জনগণের কাছে দ্রুত পৌঁছে দেওয়া, গুজব শনাক্ত করা এবং প্রমাণিত অপরাধের ক্ষেত্রে পরিচয়-নির্বিশেষে আইন প্রয়োগ করা। তাহলেই সংকটের অন্ধকারের পাশাপাশি গুজবের অন্ধকার থেকেও দেশকে বের করে আনা সম্ভব হবে।