ঢাকা ০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ডাকাতি মামলায় ৩ আসামি কারাগারে, বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

কুড়িগ্রাম উলিপুরের জুম্মাহাট পূর্ব কালুডাঙ্গা এলাকায় মোছাঃ সাজেনা বেগমের বাড়িতে ডাকাতি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলায় জামিন নিতে গিয়ে আদালত কর্তৃক নামঞ্জুর হয়ে কারাগারে গেছেন তিন আসামি।
জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে দিবাগত রাত ১১টার দিকে আসামি মো. আনিসুর রহমান, মো. ছফিয়াল হক, মো. আ. মান্নান, মো. আসলাম হোসেন তামিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়িতে হানা দেয়। তারা জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে বাদীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নেয়।
বাদী মোছাঃ সাজেনা বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় আসামিরা জোরপূর্বক তাকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করলে তাকে ধারালো চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হন। আসামিরা তাকে এই মর্মে হুমকি দেয় যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করলে তাকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে বাদী উলিপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাকে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। এই ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করা হলে দীর্ঘ শুনানির পর গত ৯ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে আসামিরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে মামলার অন্যতম আসামি মো. আসলাম হোসেন তামিম (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম কফিল উদ্দিনের নাতি), মো. ছফিয়াল হক ও মো. আ. মান্নানকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। বাদীকে প্রকাশ্যে ও ফোনে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাদীপক্ষ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে ডাকাতি মামলায় ৩ আসামি কারাগারে, বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি

আপডেট সময় : ০৬:১৬:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কুড়িগ্রাম উলিপুরের জুম্মাহাট পূর্ব কালুডাঙ্গা এলাকায় মোছাঃ সাজেনা বেগমের বাড়িতে ডাকাতি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই মামলায় জামিন নিতে গিয়ে আদালত কর্তৃক নামঞ্জুর হয়ে কারাগারে গেছেন তিন আসামি।
জানা যায়, গত ২৩ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে দিবাগত রাত ১১টার দিকে আসামি মো. আনিসুর রহমান, মো. ছফিয়াল হক, মো. আ. মান্নান, মো. আসলাম হোসেন তামিমসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠিসোঁটা, লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে বাদীর বাড়িতে হানা দেয়। তারা জোরপূর্বক ঘরে প্রবেশ করে বাদীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ২ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। একপর্যায়ে আলমারির তালা ভেঙে প্রায় ২ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নেয়।
বাদী মোছাঃ সাজেনা বেগম অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় আসামিরা জোরপূর্বক তাকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করলে তাকে ধারালো চাকু দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি স্বাক্ষর দিতে বাধ্য হন। আসামিরা তাকে এই মর্মে হুমকি দেয় যে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা করলে তাকে পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হবে।
পরবর্তীতে বাদী উলিপুর থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তাকে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়েরের পরামর্শ দেয়। এই ঘটনায় বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করা হলে দীর্ঘ শুনানির পর গত ৯ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখে আসামিরা জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিজ্ঞ জেলা জজ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে মামলার অন্যতম আসামি মো. আসলাম হোসেন তামিম (সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এম কফিল উদ্দিনের নাতি), মো. ছফিয়াল হক ও মো. আ. মান্নানকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
বাদীপক্ষ আরও অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিপক্ষ অত্যন্ত প্রভাবশালী হওয়ায় বিভিন্নভাবে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। বাদীকে প্রকাশ্যে ও ফোনে প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থায় বাদী ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। বাদীপক্ষ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।