ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাহারছড়ায় অপহরণ ও পাচার আতঙ্ক: প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এলাকাবাসীর

 

​কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ ও মানব পাচার চক্রের অপতৎপরতায় চরম ভয় ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ি অঞ্চল ও সীমান্তঘেঁষা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে গোটা জনপদ।
​স্থানীয়দের সুরক্ষায় কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, শাহজাহান চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের ‘নোয়াখালী বাঘোনা’ এলাকায় একটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পটির নির্মাণকাজ দ্রুতই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই ইউনিয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনকে সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন এলাকার সচেতন মহল।
​তবে এই স্বস্তিদায়ক উদ্যোগের মাঝেও জেগে উঠেছে নতুন আশঙ্কা। প্রায় ৬০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই ইউনিয়নের ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন সরাসরি পাহাড়ের পাদদেশে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, নতুন পুলিশ ক্যাম্পের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্যবর্তী এই সময়টিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারে সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলো। বিশেষ করে গভীর রাতে জনপদে অচেনা ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
​এমন পরিস্থিতিতে অপতৎপরতা রুখতে এবং জনগণের মনোবল চাঙ্গা রাখতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের জোর দাবি উঠেছে।
​এ বিষয়ে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের (জাহাজপুরা) বর্তমান ইউপি সদস্য ডাক্তার মোহাম্মদ রফিক জানান, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকিতে প্রতিটি ওয়ার্ডের সৎ, সাহসী ও নিবেদিত প্রাণ যুবকদের নিয়ে এই প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা জরুরি। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন পুলিশের সাথে সমন্বিত কাজের জবাবদিহিতা ও আইনি ভিত্তি তৈরি হবে, অন্যদিকে অপরাধীদের দমন করাও ত্বরান্বিত হবে।
​এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও যুবসমাজ আশ্বস্ত করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা পুলিশের সার্বিক কার্যক্রমে শতভাগ সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বজায় রাখবে। অনতিবিলম্বে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও প্রতিরোধ কমিটি গঠনের বিষয়ে টেকনাফ থানা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

বাহারছড়ায় অপহরণ ও পাচার আতঙ্ক: প্রতিটি ওয়ার্ডে প্রতিরোধ কমিটি গঠনের দাবি এলাকাবাসীর

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

 

​কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ ও মানব পাচার চক্রের অপতৎপরতায় চরম ভয় ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ি অঞ্চল ও সীমান্তঘেঁষা ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে প্রতিনিয়ত মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রয়েছে গোটা জনপদ।
​স্থানীয়দের সুরক্ষায় কক্সবাজারের সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, শাহজাহান চৌধুরী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগে ইতোমধ্যে ইউনিয়নের ‘নোয়াখালী বাঘোনা’ এলাকায় একটি নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পটির নির্মাণকাজ দ্রুতই শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই ইউনিয়নে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পাশাপাশি অতিরিক্ত আরও একটি পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনকে সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও সুরক্ষার ক্ষেত্রে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন এলাকার সচেতন মহল।
​তবে এই স্বস্তিদায়ক উদ্যোগের মাঝেও জেগে উঠেছে নতুন আশঙ্কা। প্রায় ৬০ হাজার জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই ইউনিয়নের ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন সরাসরি পাহাড়ের পাদদেশে। এলাকার মানুষের অভিযোগ, নতুন পুলিশ ক্যাম্পের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম বাস্তবায়নের মধ্যবর্তী এই সময়টিকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে পারে সক্রিয় অপরাধী চক্রগুলো। বিশেষ করে গভীর রাতে জনপদে অচেনা ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
​এমন পরিস্থিতিতে অপতৎপরতা রুখতে এবং জনগণের মনোবল চাঙ্গা রাখতে প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘প্রতিরোধ কমিটি’ গঠনের জোর দাবি উঠেছে।
​এ বিষয়ে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের (জাহাজপুরা) বর্তমান ইউপি সদস্য ডাক্তার মোহাম্মদ রফিক জানান, পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তদারকিতে প্রতিটি ওয়ার্ডের সৎ, সাহসী ও নিবেদিত প্রাণ যুবকদের নিয়ে এই প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা জরুরি। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন পুলিশের সাথে সমন্বিত কাজের জবাবদিহিতা ও আইনি ভিত্তি তৈরি হবে, অন্যদিকে অপরাধীদের দমন করাও ত্বরান্বিত হবে।
​এলাকাবাসীর পক্ষে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও যুবসমাজ আশ্বস্ত করেছে যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তারা পুলিশের সার্বিক কার্যক্রমে শতভাগ সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বজায় রাখবে। অনতিবিলম্বে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার ও প্রতিরোধ কমিটি গঠনের বিষয়ে টেকনাফ থানা ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।