ঢাকা ০৭:০১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ

নিম্নমানের খোয়া-বালুতে ঢালাই, তদারকিতে নেই কেউ; রাতের আঁধারে কাজের অভিযোগ
হাসপাতাল যেখানে মানুষের জীবন বাঁচানোর শেষ আশ্রয়, সেই হাসপাতালের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজেই যদি মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে বিষয়টি শুধু অনিয়মের অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না—এটি জননিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চলমান নির্মাণ ও সংস্কারকাজ ঘিরে এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের খোয়া, রাবিশ ইটের খোয়া ও মানহীন বালু ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি ঢালাইয়ের সময় ঘটনাস্থলে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থে পরিচালিত এ নির্মাণকাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
সরেজমিনে হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত নেই। কয়েকজন মিস্ত্রি ও শ্রমিক নিজেদের মতো করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ ঢালাইয়ের কাজ চলার সময়ও নির্মাণসামগ্রীর মান, উপকরণের পরিমাণ ও নির্ধারিত অনুপাত ঠিক রাখা হচ্ছে কি না—তা তদারকি করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে দেখা যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত খোয়ার মধ্যে রাবিশ ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবহৃত বালুর গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালুর এফএম (Fineness Modulus) বা নির্ধারিত মান পরীক্ষার কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
নির্মাণকাজে বালু, খোয়া ও সিমেন্টের নির্ধারিত অনুপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরেজমিনে দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি উপস্থিত না থাকায় কত পরিমাণ বালু, কত পরিমাণ খোয়া ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, তা যথাযথভাবে হিসাব বা তদারকি করা হচ্ছে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিয়মিত প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদারকি না থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা নিজেদের মতো করে কাজ শেষ করার সুযোগ পেতে পারেন। এতে কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ছাদ দিয়ে পানি পড়া এবং পানি পড়ে ঢালাইয়ের অংশবিশেষ উঠে যাওয়ার বিষয় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পুরোনো নির্মাণকাজের এসব সমস্যা যথাযথভাবে সমাধান না করে নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারকাজ করা হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এ ছাড়া হাসপাতালের নির্মাণ ও রঙের কাজ রাতের আঁধারে করারও অভিযোগ উঠেছে। রাতের বেলায় নির্মাণকাজ পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রাতের আঁধারে কাজ করার অভিযোগের সত্যতা এবং হয়ে থাকলে কার অনুমোদনে তা করা হচ্ছে—এ বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের নির্মাণকাজে যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রকৌশলী কিংবা ঠিকাদারের প্রতিনিধির উপস্থিতিই নিশ্চিত করা না যায়

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূল্লীতে জমি দখলের পাঁয়তারা, ধান ও মেহগনি গাছ কাটার অভিযোগ

কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৭:৪০:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৯ অগাস্ট ২০২৬

নিম্নমানের খোয়া-বালুতে ঢালাই, তদারকিতে নেই কেউ; রাতের আঁধারে কাজের অভিযোগ
হাসপাতাল যেখানে মানুষের জীবন বাঁচানোর শেষ আশ্রয়, সেই হাসপাতালের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজেই যদি মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে বিষয়টি শুধু অনিয়মের অভিযোগে সীমাবদ্ধ থাকে না—এটি জননিরাপত্তার প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চলমান নির্মাণ ও সংস্কারকাজ ঘিরে এমনই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের খোয়া, রাবিশ ইটের খোয়া ও মানহীন বালু ব্যবহারের অভিযোগের পাশাপাশি ঢালাইয়ের সময় ঘটনাস্থলে দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা বা ঠিকাদারের প্রতিনিধিকে না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে সরকারি অর্থে পরিচালিত এ নির্মাণকাজের গুণগত মান ও স্বচ্ছতা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।
সরেজমিনে হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণকাজ চলমান থাকলেও সেখানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা কিংবা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি উপস্থিত নেই। কয়েকজন মিস্ত্রি ও শ্রমিক নিজেদের মতো করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ ঢালাইয়ের কাজ চলার সময়ও নির্মাণসামগ্রীর মান, উপকরণের পরিমাণ ও নির্ধারিত অনুপাত ঠিক রাখা হচ্ছে কি না—তা তদারকি করার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে দেখা যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহৃত খোয়ার মধ্যে রাবিশ ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যবহৃত বালুর গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত বালুর এফএম (Fineness Modulus) বা নির্ধারিত মান পরীক্ষার কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।
নির্মাণকাজে বালু, খোয়া ও সিমেন্টের নির্ধারিত অনুপাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরেজমিনে দায়িত্বশীল কোনো ব্যক্তি উপস্থিত না থাকায় কত পরিমাণ বালু, কত পরিমাণ খোয়া ও সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে, তা যথাযথভাবে হিসাব বা তদারকি করা হচ্ছে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নিয়মিত প্রকৌশলী বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিন তদারকি না থাকলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা নিজেদের মতো করে কাজ শেষ করার সুযোগ পেতে পারেন। এতে কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
অন্যদিকে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশে ছাদ দিয়ে পানি পড়া এবং পানি পড়ে ঢালাইয়ের অংশবিশেষ উঠে যাওয়ার বিষয় নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। পুরোনো নির্মাণকাজের এসব সমস্যা যথাযথভাবে সমাধান না করে নতুন করে নির্মাণ ও সংস্কারকাজ করা হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এ ছাড়া হাসপাতালের নির্মাণ ও রঙের কাজ রাতের আঁধারে করারও অভিযোগ উঠেছে। রাতের বেলায় নির্মাণকাজ পরিচালিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই রাতের আঁধারে কাজ করার অভিযোগের সত্যতা এবং হয়ে থাকলে কার অনুমোদনে তা করা হচ্ছে—এ বিষয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, জনগণের অর্থে পরিচালিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হাসপাতালের নির্মাণকাজে যদি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রকৌশলী কিংবা ঠিকাদারের প্রতিনিধির উপস্থিতিই নিশ্চিত করা না যায়