একটি বিদ্যালয়ের মাঠ মানে শিশুদের খেলার জায়গা, পড়াশোনার পরিবেশ। কিন্তু লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার সেবাগ্রাম ফজলু রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ে সেই মাঠই এখন বালুর ভাগাড়। অভিযোগ উঠেছে, প্রধান শিক্ষক জাকের হোসেন, এর বিরুদ্ধে, মাঠ ও স্কুলের পুকুর ৫ বছরের জন্য বালু ঠিকাদারের কাছে লিজ দিয়েছেন ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায়।
ফল? ক্লাসের ভেতর ধুলো, শ্বাসকষ্ট, আর শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা কার্যত বন্ধ।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঠিকাদার মাঠ থেকে বালু তোলার সময় চারপাশে ধুলোর ঝড় ওঠে। তখন ক্লাস করানোই যায় না।
“স্যাররা অঙ্ক করায় কিন্তু আমরা গাড়ির আওয়াজের কারণে কিছুই বুঝি না। পরের দিন এসে দেখি বেঞ্চ-টেবিল সব বালু আর ধুলায় একাকার। ক্লাসে বসলে চোখ-মুখে বালু ঢোকে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়,” — ক্ষোভ নিয়ে বলছিল কয়েকজন শিক্ষার্থী।
শুধু মাঠ নয়, স্কুলের পুকুরটিও বালু ব্যবসায়ীদের দখলে রেখেছেন প্রধান শিক্ষক বলে অভিযোগ।
প্রধান শিক্ষকের সাফাই: “কলেজ করতে টাকা লাগবে”
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, স্কুলকে কলেজে রূপান্তর করতে তার ১৫ লাখ টাকা প্রয়োজন। সেই টাকা জোগাড় করতেই তিনি ৫ বছরের জন্য মাঠ ও পুকুর বালু ব্যবসায়ীদের কাছে দিয়েছেন।
ঠিকাদারের স্বীকারোক্তি:
ভাইভাই ট্রেডার্সের ম্যানেজার নাজিম বলেন, “আমরা ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ৫ বছরের চুক্তি করেছি। এর মধ্যে ২ বছর গেছে, আরও ৩ বছর বাকি আছে।”
বিষয়টি নিয়ে রামগতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকায় তীব্র ক্ষোভ:
শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার সচেতন মহল বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসার জায়গা বানানো মেনে নেওয়া যায় না। তারা দ্রুত চুক্তি বাতিল করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং স্কুলের পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বাণিজ্যিক পণ্য বানানোর এই ঘটনা এখন রামগতির আলোচনার কেন্দ্রে। স্থানীয়দের দাবি, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ও রামগতি-কমলনগরের সংসদ সদস্য হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান যেন দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন।
মোঃ হাসান হাওলাদার, রামগতি,কমলনগর লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি 



















